Somoy TV
মার্কিন নৌ অবরোধের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালীর অবরোধ অব্যাহত রাখায় তেহরানকে রোববার (১৯ এপ্রিল) আবারও হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন হুমকিতে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি এবারের ‘অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তি’ গ্রহণ না করে, তাহলে আর ‘ভদ্রলোক’ থাকা হবে না। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে, সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের আবারও বৈঠক করার কথা রয়েছে। ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান গতকাল হরমুজ প্রণালীতে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন! এর মধ্যে একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়েছে। এটা ঠিক হয়নি, তাই না? আমার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাচ্ছেন আলোচনার জন্য, তারা আগামীকাল সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন।’ আরও পড়ুন: হরমুজ খোলার জন্য পারলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে দেখাক ট্রাম্প: আইআরজিসি তিনি আরও লেখেন, ইরান সম্প্রতি প্রণালীটি (হরমুজ) বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বেশ অদ্ভুত। কারণ আমাদের অবরোধের কারণে এটি ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। তারা না জেনেই আমাদের সাহায্য করছে এবং এই নৌপথ বন্ধ থাকায় তাদেরই ক্ষতি হচ্ছে, প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার! যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতিই হচ্ছে না। অনেক জাহাজ এখন মালামাল বোঝাই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, লুইজিয়ানা এবং আলাস্কার দিকে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সামাজিক মাধ্যমের দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, আমরা অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত একটি প্রস্তাব দিচ্ছি এবং আমি আশা করি তারা (ইরান) তা গ্রহণ করবে। যদি তারা তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেবে। আর কোনো ভদ্রতা নয়! তাদের পতন হবে দ্রুত, সহজভাবে। তিনি আরও বলেন, যদি তারা এই চুক্তি গ্রহণ না করে, তবে যা করা দরকার তা করতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের হবে, যা গত ৪৭ বছর ধরে অন্যান্য প্রেসিডেন্টদের ইরানের প্রতি করা উচিত ছিল। ইরানের এই হত্যাযন্ত্রের (কিলিং মেশিন) অবসান ঘটানোর সময় এসেছে! আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি সত্ত্বেও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি এখনও ‘অনেক দূরে’ রয়েছে বলে ইরানের সংসদ স্পিকার ইঙ্গিত দেয়ায়, কৌশলগত হরমুজ প্রণালী রোববারও বন্ধ ছিল। আরও পড়ুন: কোনো জাতিকে অধিকারবঞ্চিত করার ট্রাম্প কে? প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের পাকিস্তানে সম্প্রতি উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার মধ্যেই তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথটি পুনরায় খুলতে দেবে না। এদিকে, সরকারি অনুমতি ছাড়া বা নৌবাহিনীর সতর্কতা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানি বাহিনী ‘লক্ষ্যবস্তু’ করবে বলে সতর্ক করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকে ইরানের সার্বভৌমত্বের অংশ উল্লেখ করে আইআরজিসি নৌবাহিনীর একজন কমান্ডার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব হবে ‘কঠোর ও তাৎক্ষণিক’, যা ওয়াশিংটনের চিন্তার বাইরে। ওই নৌ কমান্ডার সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে, ইরানের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করার তার পূর্ববর্তী হুমকির গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প যদি তার হুমকি নিয়ে সিরিয়াস হন, তবে তিনি কেন শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য তার যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছেন না? সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে মার্কিন নৌবাহিনীর অনাগ্রহ ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের কার্যকারিতাই প্রমাণ করে। পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এসব মন্তব্য এলো, যেখানে ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বাহ্যিক চাপের জবাবে হরমুজ প্রণালীকে একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহারের ইচ্ছার কথা বারবার জানিয়ে আসছে। আরও পড়ুন: নজিরবিহীন হামলার পরও ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের বেশিরভাগই এখনও অক্ষত ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে আইআরজিসি। রোববার (১৯ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা এ তথ্য জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ফি দিয়ে জাহাজ চলাচলের যে সুযোগ ছিল, তাও বাতিল করা হয়েছে। আইআরজিসি’র নৌবাহিনী শাখা সতর্ক করে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধকে দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান।
Go to News Site