Somoy TV
মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সানদাকান শহরে একটি ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই গেছে। ফলে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে ৯ হাজারের বেশি মানুষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মালয় মেইলের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন মতে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ৩২ মিনিটে উপকূলীয় শহর সানদাকানের ভাসমান গ্রাম কামপুং বাহাগিয়ায় আগুন লাগে। জেলা পুলিশ প্রধান এসিপি জর্জ আবদ রাকমান জানান, রাত দেড়টার দিকে পুলিশ এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে এবং ভোর ৪টায় এলাকাটিকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সানদাকান ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ স্টেশনের প্রধান জিমি লাগুং জানান, কর্তৃপক্ষের কাছে ফোনকল আসার পরপরই কয়েক ডজন অগ্নিনির্বাপক সদস্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এলাকাটিতে প্রায় ১,২০০টি বাড়ি ছিল, যার মধ্যে প্রায় ১,০০০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে ৯ হাজার ৭ জন বাসিন্দা উদ্বাস্তু হয়েছেন। কয়েক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলেও জানান তিনি। তার কথায়, ‘সৌভাগ্যবশত, দমকল ও উদ্ধারকারী বিভাগ আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।’ আরও পড়ুন: একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া সানদাকান জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান দাতুক ওয়াল্টার কেনসন বলেন, পরিদর্শনে দেখা গেছে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো আর বসবাসের উপযোগী নেই। এ ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, আগুনে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর খবর ছড়ানো হচ্ছে। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, এখন পর্যন্ত আমি কোনো প্রাণহানির খবর পাইনি। যারা আহত হয়েছেন, তারা সম্ভবত নিজেদের জিনিসপত্র বাঁচাতে গিয়ে বা অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে আহত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, দমকল ও উদ্ধার বিভাগ এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয়ের কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, আগুন লাগার কারণ এখনও বিভাগটির তদন্তাধীন রয়েছে। আরও পড়ুন: হাফ-ম্যারাথনে প্রথমবারের মতো মানুষকে পেছনে ফেলল রোবট! (ভিডিও) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা ও অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে তার সরকার এবং সাবাহ রাজ্য সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
Go to News Site