Somoy TV
ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঘাড়ের টিউমার অস্ত্রোপচারের সময় রক্তনালী কেটে মিম আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে টাকার বিনিময়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে।রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।নিহত মিম আক্তার ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা শওকত মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. আতিকুল আহসান। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত।নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে ঘাড়ের টিউমার নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীত পাশে অবস্থিত ‘প্রভাতী প্রাইভেট হাসপাতালে’ চিকিৎসক দেখানো হয় মিমকে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। ডা. আতিকুল আহসানের তত্ত্বাবধানে ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার অস্ত্রোপচার শুরু হয়।অস্ত্রোপচারের সময় অসাবধানতাবশত মিমের গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সংকটাপন্ন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে পাঁচদিন লড়াই করার পর আজ রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ফরমে দেখা গেছে, রোগীর পরিবারের কোনো সদস্যের মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে রাকিব নামে ওই চিকিৎসকের সহকারীর মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওই সহকারী জানান, ‘দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির কারণেই আমার নম্বর দেওয়া হয়েছে।’চিকিৎসকদের মতে, মিম যে সমস্যায় ভুগছিলেন, তা মূলত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আওতাধীন। তবে জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞ হয়েও আতিকুল আহসান এই অস্ত্রোপচারটি করেন।আরও পড়ুন: ফোঁড়ার অস্ত্রোপচারে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখে পালালেন চিকিৎসক, রোগীর মৃত্যুএ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. দিলরুবা জেবা বলেন, 'সার্জারি বিভাগের একজন চিকিৎসক গলার অপারেশন করতে পারেন, যদি তিনি এ বিষয়ে দক্ষ হন। তবে বর্তমানে এ ধরনের অপারেশন সাধারণত ইএনটি বিশেষজ্ঞরাই করে থাকেন। রোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ও মীমাংসা করতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে রোগীর স্বজনদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে টাকার বিনিময়ে আপোষ-মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পরিবারের সদস্যরা কোনো অভিযোগ ছাড়াই মরদেহ নিয়ে বাড়িতে চলে যান।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. আতিকুল আহসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, 'ঘটনাটি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
Go to News Site