Collector
অদম্য ক্রিকেটার মাহিনের চোখে স্বপ্ন দেশসেরা খেলোয়াড় হওয়া | Collector
অদম্য ক্রিকেটার মাহিনের চোখে স্বপ্ন দেশসেরা খেলোয়াড় হওয়া
Somoy TV

অদম্য ক্রিকেটার মাহিনের চোখে স্বপ্ন দেশসেরা খেলোয়াড় হওয়া

অদম্য এক ক্রিকেটার মাহিন। তারকা ক্রিকেটারদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজ প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় প্রথম বিভাগ লিগে সারা বাংলাদেশে ওঠে আসেন ৭ নাম্বারে।ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেট কিপিং করেও এ বছর সেরা কিপারদের তালিকায় যৌথভাবে রয়েছেন এক নম্বরে। যার মননে মগজে ধ্যানে জ্ঞানে একমাত্র ক্রিকেট। যদিও সুযোগ সুবিধার অভাবে বিভিন্ন সময়ের ভালো ভালো খেলোয়াররা জীবিকা নির্বাহে ভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছেন, কিন্তু মাহিনের স্বপ্ন দেশসেরা খেলোয়াড় হওয়ার।    ছোটোবেলা থেকে খালাতো ভাইসহ প্রতিবেশীদের সাথে হাতে খড়ি ক্রিকেটের। এভাবে পাড়ার মাঠ থেকে শহরের সাতপাই স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হয়। এক পর্যায়ে নেত্রকোণা জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস সেভেনে যখন প্রথম স্কুল পর্যায়ে খেলেন, তখনই সকলের নজরে চলে আসেন। ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করলেও লবিং বা সুপারিশ না থাকায় ভালো পর্যায়ে খেলার সুযোগ পায়নি কখনো। তারপরও অদম্য ইচ্ছা শক্তির জোরে ভেঙে না পড়ে খেলতে খেলতে থাকেন আশফিকুল আলম মাহিন।   বয়সভিত্তিক দলে খেলা শুরু করেন ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে। ধারাবাহিক পারফরমেন্সের মাধ্যমে খেলেছেন জেলা দল থেকে বিভাগীয় দলে। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৬ জেলা দলে সকল দিক দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বাদ দিয়ে দেন তৎকালীন ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা।   পরবর্তীতে বোর্ডে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে উত্তীর্ণ হলে অনূর্ধ্ব-১৬ জেলা দলে সুযোগ পান। তখন খেলায় দুর্দান্ত পারফর্ম দেখিয়ে সর্বোচ্চ রান করে জায়গা করে নেন ঢাকা নর্থ বিভাগীয় দলে। পরবর্তীতে টানা চার বছর ভালো পারফর্ম করেন মাহিন, তবে তার চেয়ে কম পারফর্ম করা খেলেয়াড়রাও ন্যাশনাল ক্যাম্প সুযোগ পান, কিন্তু মাহিনের ভাগ্যে সেই সুযোগ আসেনি।  আরও পড়ুন: আইপিএল প্রতিষ্ঠাতার ভবিষ্যদ্বাণী–৩ বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে দ্য হান্ড্রেড এতে ভেঙে না পড়ে নিজেকে তৈরি করতে আরও পরিশ্রম শুরু করেন তিনি। এরপর ময়মনসিংহ মিন্টু কলেজে ভর্তি হয়ে তিনি একটি ক্লাবে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন। এদিকে স্কুল-কলেজ টিমের ক্যাপ্টেন হয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাগাতার সুনাম এনে দিয়েছেন। ফলে এক পর্যায়ে ময়মনসিংহ থেকে সুযোগ পান প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে খেলার। এরপর পারফরম্যান্সের ফলে ময়মনসিংহ প্রিমিয়ার ডিভিশন খেলতে থাকেন।   মূলত ২০১৮ সাল থেকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় লিগের পাশাপাশি ঢাকা লিগ খেলা শুরু হয়। ময়মনসিংহ বিভাগে ২০২০ থেকে প্রায় চার বছরে প্রতি বছরই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ছিলেন সবার উপরের দিকে। তার পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন লিগেও করে গেছেন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স।    এরপর ২০২২ মৌসুমে ঢাকার প্রথম বিভাগের একটি দলে খেলার সুযোগ পান, সেখানেও সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন তিনি। প্রথম বিভাগে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে সারা বাংলাদেশে হন ১১তম। পরের বছর আরও ভালো পারফর্ম করে ব্যক্তিগত ৬১৯ রান করেন মাত্র ১৫ ম্যাচে। যেখানে ছিলো দুটি শতক, একটি নব্বই উর্ধো ইনিংস ও দুটি ফিফটি। রান সংগ্রাহকদের তালিকায় প্রথম বিভাগ লিগে সারা বাংলাদেশে উঠে আসেন ৭ নম্বরে।   তারপরও সুযোগ অসেনি প্রিমিয়ার লিগে। যা ছিলো ক্রিকেটার মাহিনের এক স্বপ্ন। কিন্তু তার থেকে অনেক কম রান করেও প্রিমিয়ার লীগে সুযোগ পেয়েছেন অনেক ক্রিকেটার। যাদের লবিং রয়েছে নানা পর্যায়ে। অথচ পরিশ্রমী ভালো পারফর্মাররা পিছিয়ে থাকেন এই লবিং নামের কার্যক্রমটির জন্য।    আরও পড়ুন: টাকার অভাবে থেমে যেতে বসেছে রাফির ক্রিকেট ক্যারিয়ার ঢাকা লিগে খেলাকালীন ময়মনসিংহ জেলা দলের হয়ে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশীপ ক্রিকেট লীগে অংশগ্রহণ করে ৪০ বছর পর ময়মনসিংহ জেলা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপা জেতার ইতিহাসে নাম লেখান।   বারবার ভালো খেলেও প্রিমিয়ার লীগে সুযোগ না পেয়েও চলতি বছরেও রানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন ঢাকা লিগে। তিনি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেট কিপিং করে এ বছর সেরা কিপারদের তালিকায় যৌথভাবে (তিনজন) এক নম্বরে রয়েছেন। বহু খেলা খেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়েও। ২৭ বছর বয়সি মাহিন খেলাকেই জীবনের লক্ষ্য নিয়েছেন।   তার সাথে একত্রে বিভাগীয় খেলায় অংশগ্রহণকারী আকবর আলী, শামিম পাটোয়ারী, হাসান মুরাদসহ অনেকেই এখন খেলছেন জাতীয় দলে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার পরও সুযোগের অভাবে মাহিনদের মতো খেলোয়াড়রা পড়ে থাকেন অবহেলায়। যে কারণে এমন অনেক প্রতিভাবান কিকেটাররা হারিয়ে যান অনাদরে অবহেলায়। খেলাকে ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে অনেকেই ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হন।   তেমনি অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় টিমে খেলেও এখন ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কেউ কেউ সরকারি বা বেসরকারি চাকরি জীবন নিয়ে কাটাচ্ছেন সময়। কিন্তু তাদেরও মন পড়ে রয় প্রিয় ক্রিকটের দিকেই। খেলা হলেই ছুটে যান দর্শক সারিতে বসতে। বর্তমানে মাহিন আনন্দমোহন কলেজে মাস্টার্স পড়ছেন। যেখানেই খেলার আমন্ত্রণ পান সেখানেই ছুটে যান।

Go to News Site