Collector
পাউবোর কয়েক কোটি টাকার জমি বেদখলের অভিযোগ কার্য সহকারীর বিরুদ্ধে | Collector
পাউবোর কয়েক কোটি টাকার জমি বেদখলের অভিযোগ কার্য সহকারীর বিরুদ্ধে
Somoy TV

পাউবোর কয়েক কোটি টাকার জমি বেদখলের অভিযোগ কার্য সহকারীর বিরুদ্ধে

বরগুনার পাথরঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি বেদখল হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ পাউবোর কার্য সহকারী মামুনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জমিতে ঘর তোলা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মামুন। শুধু তাই নয়, সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপণ করা গাছ কেটেও ঘর তুলে দিতে মামুন সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ বন বিভাগের।এ ঘটনার মামুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। পরে পাথরঘাটা অফিস থেকে মামুনকে প্রত্যাহার করেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে দেখা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার ট্যাংরা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের দুই পাশে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে তোলা হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়রা জানান, পাউবোর কার্য সহকারী মাহমুদুল হাসান মামুন দোকানপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে দোকান তুলে দিয়েছেন। শুধু ট্যাংরা এলাকায় নয়, পাথরঘাটা পৌরসভা, পদ্মা এবং নাচনাপাড়া এলাকায়ও এভাবেই বেদখল হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি। আরও পড়ুন: পাউবোর কাণ্ড: ভাঙা কূলের বালু দিয়েই নদীভাঙন রোধের চেষ্টা! বন বিভাগের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে সামাজিক বনায়নের আওতায় বন বিভাগের রোপণ করা গাছও মামুনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় উজাড় করে ঘর তোলা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামুন। তার দাবি ৫ আগস্টের পর কোনো কিছুই তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। মামুনের অনিয়মের বিষয়ে গত ৩ মার্চ স্থানীয় জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ৪ মার্চ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাথরঘাটা অফিস থেকে মামুনকে প্রত্যাহার করে বরগুনা জেলা কার্যালয়ে আনা হয়েছে। ট্যাংরা এলাকার বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, বেড়িবাঁধের দুই পাশে গাছ ছিল। মামুনের সহযোগিতায় সেই গাছ কেটে দোকান তোলা হয়েছে। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি বেদখল হয়েছে। আর দোকান প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন মামুন।’ সোবাহান মিয়া নামের একজন বলেন, পাথরঘাটায় রাম‌ রাজত্ব কায়েম করেছে মামুন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রক্ষক হয়েও মামুন পাথরঘাটায় ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। আরও পড়ুন: পাউবোর কয়েক লাখ টাকার গাছ উধাও, থানায় অভিযোগ পাথরঘাটা বন বিভাগের বীট কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে আমরা সামাজিক বনায়নের আওতায় বৃক্ষ রোপণ করি। মামুন টাকার বিনিময়ে সেই গাছ কেটে স্থানীয়দের ঘর তুলতে সহযোগিতা করেছে। এ বিষয়ে আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামুন জানান, দায়িত্বের প্রতি অবিচল থাকায় পাথরঘাটা থেকে তাকে হটানোর জন্য সবাই একজোট হয়েছে। মূলত ৫ আগস্টের পর কোনো কিছু তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। এখন তিনি কঠোর হওয়ায় সবাই তার উপর ক্ষেপেছেন। এ বিষয়ে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে পাথরঘাটা থেকে বরগুনা অফিসে নিয়ে এসেছি। তার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Go to News Site