Somoy TV
বরিশালে ধানের বদলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অর্থকরী ফসল সয়াবিনের চাষ। উৎপাদন খরচ কম ও লাভজনক হওয়ায় সয়াবিন উৎপাদনে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। ফলে আবাদ বেড়েছে গত অর্থবছরের চেয়ে ২৩ শতাংশ।সরজমিনে দেখা যায়, বরিশালের মাঠে এখন ধানের বদলে শোভা পাচ্ছে অর্থকরী ফসল সয়াবিন। উৎপাদন খরচ কম ও লাভজনক হওয়ায় ইরি-বোরো বাদ দিয়ে কৃষকরা এখন ঝুঁকছেন সয়াবিন চাষে। চলতি মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় সয়াবিন চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সয়াবিনের জয়জয়কারে ফিকে হয়ে আসছে ইরি-বোরো ও রবি ফসলের মাঠ। পরিসংখ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে ধান ও রবি শস্যের আবাদ কমেছে প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ। এছাড়া দক্ষিণ উপকূলের মাটিতে লবণাক্ততা সহনশীল ও কম সেচনির্ভর হওয়ায় সয়াবিন হয়ে উঠছে কৃষকের প্রথম পছন্দ। বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আকরাম মৃধা বলেন, এক মন ধান আবাদে যা খরচ হয় তার অর্ধেক খরচ হয় সয়াবিন আবাদে। আর পরিশ্রমও কম। আরও পড়ুন: নাসিরনগরের ঐতিহ্যবাহী শুটকি মেলায় ক্রেতাদের ঢল, বিলুপ্তির পথে বিনিময় প্রথা কৃষক আজিজ বলেন, সয়াবিন আবাদের শুরু থেকেই নোয়াখালীর একদল ক্রেতা আগে থেকেই ক্ষেত কিনে রাখেন। তাই অনেকটা নিশ্চিত থাকা যায়। লাভ-ক্ষতির হিসাব বলছে, প্রতি হেক্টরে ইরি-বোরো চাষে যেখানে ব্যয় হয় প্রায় ৮৫ থেকে ৯৫ হাজার টাকা, সেখানে সয়াবিন চাষে বিনিয়োগ লাগছে অনেক কম। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিন ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হওয়ায় কৃষকের পকেটে আসছে বাড়তি মুনাফা। জানা গেছে, ইরি-বোরো ধান চাষে মণপ্রতি খরচ হয় ১৭০০ থেকে ১৯০০ টাকা। যা বিক্রি হয় মণপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। অপরদিকে সয়াবিন চাষে মণপ্রতি খরচ হয় ৭৫০ থেকে ১১০০ টাকা। বিক্রি হয় প্রতিমণ ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা। বরিশাল সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, বর্তমানে কৃষি বাণিজ্যতে রূপান্তরিত হয়েছে। দিন দিন এর চাষ বেড়েছে। তবে সয়াবিন চাষের কারণে খাদ্য সংকটের যে কথা সামনে আসছে তা কোনো ভূমিকাই রাখবে না। কৃষি অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ রবি মৌসুমে যেখানে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছিল, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টরে।
Go to News Site