Jagonews24
অক্ষয় পুণ্যলাভের আশায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গঙ্গাস্নানে অংশ নিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) হিন্দু পঞ্জিকার বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি, অর্থাৎ অক্ষয় তৃতীয়াকে ঘিরে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের উদ্যোগে ভোর ৫টা থেকে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। আহ্বানী, সমবেত প্রার্থনা, মঙ্গলঘাট স্থাপন, শ্রী শ্রী বিষ্ণু পূজা এবং গঙ্গা মায়ের পূজা শেষে সকাল ১০টার দিকে ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটা সৈকতে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অক্ষয় তৃতীয়া একটি অত্যন্ত পবিত্র তিথি। এদিন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম হয়, তাই এটি পরশুরাম জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হয়। ধর্মীয় মতে, এই দিনেই মহাভারত রচনার সূচনা করেন বেদব্যাস ও গণেশ, এবং রাজা ভগীরথ গঙ্গাকে মর্ত্যে নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন। প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী জয়দেব ঠাকুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন হরপ্রিয়া দেবী ও ঋত্বিক মহারাজ ডা. রাধাস্বামী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডা. পরিতোষ রায়, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভক্তবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ভাগবত আলোচনা করেন ভক্ত গৌর গোবিন্দ দাস, শ্যামল সুন্দর দাস ও গোবিন্দ দেবনাথ। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন রতন জ্যোতি দাস ব্রহ্মচারী। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্ত সমবেত হন কুয়াকাটা সৈকতে। গঙ্গাস্নান শেষে অনেককে পরিবারসহ গীতা পাঠ, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। দশমিনা থেকে আগত ভক্ত গৌর গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, এই দিনে গঙ্গাস্নান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়। বিশ্বাস করা হয়, এদিন গঙ্গায় স্বয়ং নারায়ণের অবস্থান থাকে, ফলে সকল দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে জীবন সমৃদ্ধ হয়। কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযথ মর্যাদায় অক্ষয় তৃতীয়ার আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আগত ভক্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, অক্ষয় তৃতীয়াকে ঘিরে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত দিনভর ছিল ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত। তাই প্রতিটি স্পটে বাড়তি প্রশাসনের উপস্থিতি এবং নজরদারি বাড়িয়েছি। আশা করি কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রোগ্রাম শেষ হবে। আসাদুজ্জামান মিরাজ/এমএন/জেআইএম
Go to News Site