Somoy TV
গোপালগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রী সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)। একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেত্রীর এভাবে বিএনপির টিকিট পাওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে উভয় দলের সাধারণ সমর্থক ছাড়াও ওড়াকান্দির শ্রীধাম হরিচাঁদ ঠাকুরের অনুসারীদের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুবর্ণা শিকদার বর্তমানে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেত্রী হঠাৎ করেই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তৎপর হন এবং শেষ পর্যন্ত দলটির টিকিট নিশ্চিত করেন।এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা একে বড় ধরনের ‘রাজনৈতিক বিচ্যুতি’ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ সমর্থকদের মতে, দলের দুঃসময়ে যারা মামলা-হামলা মোকাবিলা করে রাজপথে ছিলেন, তাঁদের উপেক্ষা করে অন্য দলের পদধারী নেত্রীকে মূল্যায়ন করা তৃণমূলের জন্য চরম হতাশাজনক।অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যেও নানা ট্রল ও হাস্যরস সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।সুবর্ণা শিকদার ওড়াকান্দির বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের সদস্য হওয়ায় হরিচাঁদ ঠাকুরের অনুসারী মতুয়াদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মতুয়াদের একটি বড় অংশ এই রাজনৈতিক মেরুকরণকে তাঁদের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন নজরে দেখছেন। কেউ কেউ একে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বললেও, অনেকের মতে এটি দীর্ঘদিনের লালিত রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।আরও পড়ুন: বিএনপির মনোনয়ন পেলেন জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ফাহমিদা হকনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘অন্য দল থেকে কেউ আসতেই পারেন, কিন্তু সরাসরি মনোনয়ন পাওয়াটা ত্যাগীদের প্রতি অবিচার। এতে দলের ভেতরে বিভাজন তৈরি হবে এবং তৃণমূল কর্মীরা উৎসাহ হারাবে। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডকে জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।’এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সুবর্ণা শিকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Go to News Site