Somoy TV
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ থাকা জিয়াউল হক নামে এক প্রবাসীর সন্ধান মিলেছে। পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানকার একটি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। বাকশক্তি হারানো এই প্রবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।পিরোজপুরের জিয়ানগর (বর্তমান নাম ইন্দুরকানী) উপজেলার চন্ডিপুরের চরবলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল হক। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে দুবাইয়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের কারণে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ এক বছর তার কোনো খোঁজ না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল পরিবার। গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জিয়াউল হকের স্ত্রী ও সন্তান সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর কাছে সহায়তার আবেদন করেন। বিষয়টি জানার পরই তিনি দ্রুত উদ্যোগ নেন। পরিবারের দেয়া ছবি ও পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে দুবাইয়ে নিজস্ব যোগাযোগের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু করেন এই সংসদ সদস্য। একাধিক হাসপাতালে খোঁজ নেয়ার পর অবশেষে একটি হাসপাতালে জিয়াউলের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে ওই দিন রাতেই মাসুদ সাঈদীর উদ্যোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে জিয়াউল হকের যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। এ সময় সন্তানের ‘আব্বু, আব্বু’ ডাকে নির্বাক জিয়াউল কোনো উত্তর দিতে না পারলেও তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। এ সময় জিয়াউল হককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন মাসুদ সাঈদী। জিয়াউল হককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে প্রথম সচিব শাহানাজ পারভীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জারি করা হয়। এতে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়। আরও পড়ুন: পিরোজপুরে ভুয়া হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার, ২ বছরের কারাদণ্ড চিঠিতে তাকে স্ট্রেচার, নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তাসহ বিমানে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার দিরহাম (প্রায় ১০ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা) ব্যয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এখন তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করি অল্প দিনের মধ্যেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের যেকোনো সংকটে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।’ জিয়াউল হকের স্ত্রী শামসুন্নাহার রুনা বলেন, ‘মাসুদ সাঈদীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর স্বামীর সন্ধান পেয়ে আমরা আনন্দিত। এমপি সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি না হলে আমার স্বামী বেঁচে আছেন না মরে গেছেন, তা-ই জানতে পারতাম না। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি, তিনি কবে দেশে ফিরে আসবেন।’
Go to News Site