Somoy TV
সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। জেডি ভ্যান্সসহ মার্কিন প্রতিনিধিদলের সবাই এখনও ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরু করতে আবার পাকিস্তানে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে তারা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলেও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত বলে ভ্যান্স পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দেননি। এমনকি মার্কিন প্রতিনিধি দলের কেউই এখনো পাকিস্তানের উদ্দ্যেশে রওনা দেননি। সোমবার (২০ এপ্রিল) ট্রাম্প দাবি করেছেন আজই চুক্তি সই হবে, এমনকি মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদের পথে বলেও তিনি জানান। তবে একই সময়ে ইরান এখনো প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। পাকিস্তান দুই পক্ষকে আনার জন্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করেছে, ইসলামাবাদে হাজারো নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আরও পড়ুন: হুমকির মুখে মাথা নোয়াবে না ইরান, আজই চুক্তির আশায় ট্রাম্প ডনাল্ড ট্রাম্প এক দিকে বলছেন আলোচনায় তিনি তাড়াহুড়ো করবেন না, আবার অন্যদিকে দাবি করছেন দ্রুত চুক্তি হবে এবং সেটি ২০১৫ সালের জেসিপিওএ এর চেয়েও ভালো চুক্তি হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর রয়েছে। ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নয়। তিনি বলেন, চুক্তি না হলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতাদের সঙ্গেও দেখা করতে প্রস্তুত যদি অগ্রগতি হয়। এদিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া কোনো আলোচনায় তারা যাবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান ও রাশিয়ার সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধপূর্ণ ও অবৈধ আচরণ কূটনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আরও পড়ুন: মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিচ্ছে ইরানি জাহাজ দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান কোনো চাপের মুখে মাথা নত করবে না এবং আস্থা না থাকলে আলোচনা অর্থহীন। এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে ইরান নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো দ্বিধা রয়েছে। একই সময়ে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেই আলোচনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবরোধকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে অন্তত ২৭টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘোষণা করেছে, যারা হরমুজ অবরোধে জড়িত থাকবে তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একইসঙ্গে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে বিশ্ববাজারে।
Go to News Site