Collector
গরমে সন্তানের পরীক্ষা, অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি | Collector
গরমে সন্তানের পরীক্ষা, অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি
Jagonews24

গরমে সন্তানের পরীক্ষা, অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি

পরীক্ষা শুধু একজন শিক্ষার্থীর একার লড়াই নয়; এটি পুরো পরিবারের একসঙ্গে পথচলা। বিশেষ করে এসএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়টায় সন্তান যেমন চাপের মধ্যে থাকে, তেমনি উদ্বেগে থাকেন অভিভাবকরাও। কিন্তু এবারের বাস্তবতা একটু আলাদা। প্রশ্নপত্রের বাইরে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে, তীব্র গরম। এই গরমে শুধু ভালো প্রস্তুতি থাকলেই যথেষ্ট নয়, দরকার সচেতনতা, যত্ন আর পরিকল্পিত সহায়তা। অভিভাবকদের সামান্য অসচেতনতা যেমন সন্তানের কষ্ট বাড়াতে পারে, তেমনি ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপ তার আত্মবিশ্বাস ও পারফরম্যান্স দুটোকেই ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। গরম শুধু অস্বস্তি নয়, স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও অতিরিক্ত গরমে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব এসব সমস্যা খুব সাধারণ হলেও পরীক্ষার সময় এগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই জায়গায় অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। সন্তান ঠিকমতো পানি পান করছে কি না, নিয়মিত খাবার খাচ্ছে কি না এসব খেয়াল রাখা প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায়, পরীক্ষার চাপের কারণে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এসব বিষয় অবহেলা করে। তখন অভিভাবকদেরই এগিয়ে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। খাবার ও পানীয় পরীক্ষার দিন সকালে না খেয়ে বের হওয়া বা খুব ভারী খাবার খাওয়া দুটোই ক্ষতিকর। অভিভাবকদের উচিত হালকা কিন্তু পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা। ভাত, ডাল, ডিম, সবজি কিংবা রুটি-সবজি এ ধরনের খাবার শরীরকে শক্তি দেয়, আবার অতিরিক্ত ভারীও লাগে না। সঙ্গে একটি পানির বোতল দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চাইলে লেবুর শরবত বা ওরস্যালাইনও দেওয়া যেতে পারে, যেন শরীরের পানির ঘাটতি না হয়। আরও পড়ুন:  শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নয়, প্রয়োজন স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট রোদ-রাস্তা-স্বপ্ন, এই গরমেই পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে লাখো শিক্ষার্থী সকালের প্রস্তুতি: তাড়াহুড়ো নয়, পরিকল্পনা পরীক্ষার দিন সকালে অগোছালো পরিস্থিতি সন্তানের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই আগের রাতেই সবকিছু গুছিয়ে রাখা ভালো। যেমন- প্রবেশপত্র, প্রয়োজনীয় কলম, পেনসিল, বোর্ড বা অন্যান্য সামগ্রী। সকালে যেন তাড়াহুড়ো না করতে হয়, সে জন্য সময় হাতে রেখে বের হওয়া উচিত। যানজট বা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মাথায় রেখে একটু আগে বের হওয়াই নিরাপদ। মানসিক সাপোর্ট: কথার শক্তি অনেক বেশি এই সময় সন্তানদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক সহায়তা। ‘ভালো করতেই হবে’ বা ‘ফেল করা চলবে না’ এমন চাপের কথা না বলে বরং উৎসাহ দেওয়া জরুরি। একটি সহজ বাক্য ‘যা পড়েছো, সেটাই ভালোভাবে লিখে আসো’ এটি সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। অভিভাবকদের আচরণ ও কথাবার্তা সরাসরি সন্তানের মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে। তুলনা নয়, বোঝাপড়া প্রয়োজন অনেক অভিভাবক অজান্তেই অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করে বসেন। ‘ও তো এত পড়েছে’, ‘ওর প্রস্তুতি ভালো’ এমন কথা সন্তানের মধ্যে ভয় ও আত্মবিশ্বাসহীনতা তৈরি করে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আলাদা, এটি বুঝে তাকে নিজের মতো করে এগোতে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। পরীক্ষা শেষে প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা শেষে অনেক অভিভাবক প্রথমেই জিজ্ঞেস করেন, কেমন হয়েছে? যদি উত্তর আশানুরূপ না হয়, তাহলে তারা হতাশা প্রকাশ করেন। কিন্তু এই সময় সন্তানের প্রয়োজন সমর্থন, সমালোচনা নয়। একটি পরীক্ষার ফল যাই হোক, সামনে আরও পরীক্ষা আছে এই বিষয়টি মাথায় রেখে ইতিবাচক মনোভাব রাখা জরুরি। বিশ্রাম ও আরাম প্রতিটি পরীক্ষার পর সন্তানকে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। গরমে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তাই পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকরা চাইলে হালকা গল্প, প্রিয় কোনো খাবার বা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করে সন্তানের মানসিক চাপ কমাতে পারেন। ডিজিটাল বিভ্রান্তি থেকে দূরে রাখা পরীক্ষার সময় সোশ্যাল মিডিয়া অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে। কে কত পড়েছে, কার পরীক্ষা কেমন হয়েছে এসব দেখে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়। অভিভাবকদের উচিত এই সময়টায় সন্তানকে ডিজিটাল বিভ্রান্তি থেকে কিছুটা দূরে রাখতে উৎসাহ দেওয়া। গরমে পরীক্ষা দেওয়া সহজ নয়। এটি শুধু জ্ঞানের পরীক্ষা নয়, বরং ধৈর্য, সহনশীলতা আর মানসিক শক্তিরও পরীক্ষা। এই কঠিন সময়ে অভিভাবকরাই হতে পারেন সন্তানের সবচেয়ে বড় ভরসা। তাদের সচেতনতা, সহানুভূতি আর সঠিক দিকনির্দেশনা একজন শিক্ষার্থীর পথকে অনেকটাই সহজ করে দিতে পারে। মনে রাখতে হবে একটি ভালো পরিবেশ, কিছু ইতিবাচক কথা আর সামান্য যত্ন এই তিনটিই একজন পরীক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি। জেএস/

Go to News Site