Collector
বর্ষার আগেই ঘর হারানোর শঙ্কা, কুড়িগ্রামের নদীপাড়ে শুধুই দুশ্চিন্তা | Collector
বর্ষার আগেই ঘর হারানোর শঙ্কা, কুড়িগ্রামের নদীপাড়ে শুধুই দুশ্চিন্তা
Somoy TV

বর্ষার আগেই ঘর হারানোর শঙ্কা, কুড়িগ্রামের নদীপাড়ে শুধুই দুশ্চিন্তা

কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাঁচটি প্রধান নদ-নদীর পাড়ে এখন কেবলই আর্তনাদ। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, আর তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও গঙ্গাধর পাড়ের মানুষের উদ্বেগ। গত বর্ষায় ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। এবারও কয়েক হাজার পরিবার ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ভিটেমাটি হারানোর প্রহর গুনছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি বছর ভাঙন শুরুর পর প্রশাসনের টনক নড়লেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। ফলে বর্ষার আগেই আতঙ্কে অনেকে নিজেদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, অক্ষত গত বছর নদ-নদীর ভাঙন ও বাসিন্দাদের ঘর-বাড়ি সরানোর চিহ্ন। এটি সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া। জেলার প্রধান ৫টি নদ-নদীর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অরক্ষিত পাড়ের দৃশ্য একই রকম।প্রতি বছর বর্ষায় ভাঙন তীব্র হয়ে উঠে কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও গঙ্গাধরের দুই পাড় জুড়ে। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে ভাঙন শুরু হলে ঘর-বাড়ি সরানোর সময়টুকু পান না নদী পাড়ের মানুষ। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ভাঙনরোধে সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় আগেভাগেই ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন নদ-নদীর কিনারে থাকা অনেক পরিবার। আর যাদের যাওয়ার জায়গা নেই তারা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এমন পরিস্থিতিতে বর্ষা শুরুর আগেই ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের। তা নাহলে আসন্ন বর্ষায় নতুন করে ঠাঁই হারিয়ে নিঃস্ব হবে হাজার হাজার পরিবার, বিলীন হবে সরকারি স্থাপনা, হাটবাজারও।কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের লেবু মিয়া ও আফসার আলী জানান, গত কয়েক বছরে বানিয়ার পাড়া গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এবারও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে শতশত পরিবার। দ্রুত বর্ষার আগে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে বসতভিটার পাশাপাশি ফসলী জমি যাত্রাপরহাট ও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হবে।আরও পড়ুন: বাঁধে ভয়ঙ্কর ভাঙন, পানির নিচে ৩০০ একর জমির আধা পাকা ধানকুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, আগামী বর্ষায় নদ-নদী অববাহিকার অরক্ষিত ১৯ কিলোমিটার অরক্ষিত পাড়ের অস্থায়ী ভাঙনরোধে ১ লাখ জিওব্যাগ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এসব জিওব্যাগ ভাঙন কবলিত এলাকায় ব্যবহার করা হবে।তথ্যমতে, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ভাঙন প্রবন ৫টি প্রধান নদ-নদীর দুইপাড়ের দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩৭৪ কিলোমিটার। এরমধ্যে অরক্ষিত পাড় রয়েছে ৩০৮ কিলোমিটার।

Go to News Site