Jagonews24
রাজশাহী অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। গত মার্চ মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাম আক্রান্ত অন্তত ৩৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ শিশুই ছিল টিকাবঞ্চিত। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ১৪ জন মেয়ে ও ২৩ জন ছেলে। মেয়ে শিশুদের মধ্যে ৬ জন টিকা নিয়েছিল, কিন্তু ১৭ জন কোনো টিকা না নিয়েই মৃত্যুবরণ করেছে। অন্যদিকে, ছেলে শিশুদের মধ্যে ৪ জন টিকা নেওয়া অবস্থায় এবং ১০ জন টিকাবঞ্চিত অবস্থায় মারা গেছে। সব মিলিয়ে মৃত ৩৭ শিশুর মধ্যে মাত্র ১০ জন টিকা পেয়েছিল, আর বাকি ২৭ জন ছিল টিকার বাইরে। ঝুঁকির বড় অংশজুড়ে রয়েছে অল্পবয়সী শিশুরা। ছেলে শিশুদের মধ্যে ১ থেকে ১০ মাস বয়সী ১০ জন কোনো টিকা না পেয়েই মারা গেছে। এছাড়া ১০ মাস থেকে সাড়ে ৩ বছর বয়সী ৪ জন ছেলে শিশু টিকা নেওয়ার পরও মৃত্যুবরণ করেছে। একইভাবে, মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে ৯ মাসের কম বয়সী ১৭ জন টিকাবঞ্চিত অবস্থায় মারা গেছে। অপরদিকে, ১০ থেকে ১৫ মাস বয়সী ৬ জন মেয়ে শিশু টিকা গ্রহণের পরও প্রাণ হারিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। টিকাদান কার্যক্রমের আওতার বাইরে থেকে যাওয়াই মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরও পড়ুন:প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসকরা যেন ‘ঢাল-তলোয়ারহীন সেনাপতি’ঘরে ঘরে উপসর্গ নিয়ে ঘুরছে শিশুরা, উদাসীনতায় বাড়ছে হামযন্ত্র সংকটে ধুঁকছে বিশেষায়িত ইউনিট, সেবা পাচ্ছে না নবজাতক রামেক হাসপাতালের মিডিয়া মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, হাম প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত কার্যকর হলেও নির্দিষ্ট বয়সের আগে তা দেওয়া যায় না। বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে টিকাদান সম্ভব না হওয়ায় তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। ফলে এই বয়ঃসীমার শিশুদের সুরক্ষায় পরিবার ও সমাজের সমন্বিত সচেতনতা জরুরি হয়ে পড়ে। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঝুঁকির বড় অংশজুড়ে রয়েছে অল্পবয়সী শিশুরা। ছেলে শিশুদের মধ্যে ১ থেকে ১০ মাস বয়সী ১০ জন কোনো টিকা না পেয়েই মারা গেছে। এছাড়া ১০ মাস থেকে সাড়ে ৩ বছর বয়সী ৪ জন ছেলে শিশু টিকা নেওয়ার পরও মৃত্যুবরণ করেছে। একইভাবে, মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে ৯ মাসের কম বয়সী ১৭ জন টিকাবঞ্চিত অবস্থায় মারা গেছে। অপরদিকে, ১০ থেকে ১৫ মাস বয়সী ৬ জন মেয়ে শিশু টিকা গ্রহণের পরও প্রাণ হারিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা নেওয়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা বা দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে মৃত্যুঝুঁকি থেকে যায়। ‘আমাদের টিকার কোনো ঘাটতি নেই। ঝুঁকিপূর্ণ একটি উপজেলায় টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এছাড়া আজ (সোমবার) থেকে রাজশাহীর সব উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলমান এই কর্মসূচির আওতায় মহানগরীর ৫৪ হাজার ১৪৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। এছাড়া রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৭ জন, পবা উপজেলার ৪ জন, কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলার ২ জন করে এবং নওগাঁ জেলার পাশাপাশি মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলার একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সীমান্তবর্তী ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ ও টিকাদান বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আরও পড়ুন:হাম যে পর্যায়ে আছে, কমতে সময় লাগবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাহাম প্রতিরোধে গলিতে গলিতে প্রচারণা চালাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীরামেকে আইসিইউ সংকটে মার্চেই ২২৯ মৃত্যু, শিশু ৯১ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নির্মূলে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। জাতীয় কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত টিকাদান সেবা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উদাসীনতা, ভুল ধারণা ও দূরবর্তী এলাকার কারণে অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে এসব শিশুই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। আবার হাম প্রতিরোধে শুধু টিকাদানই নয়, পুষ্টি নিশ্চিত করা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া বা কাশি, এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের টিকার কোনো ঘাটতি নেই। ঝুঁকিপূর্ণ একটি উপজেলায় টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এছাড়া আজ (সোমবার) থেকে রাজশাহীর সব উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলমান এই কর্মসূচির আওতায় মহানগরীর ৫৪ হাজার ১৪৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, আমরা সব সময় যেকোনো রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত আছি। নতুন কখন কোন রোগ আসে সেটা বলা যায় না, তাই আমরা সব সময় প্রস্তুত থাকি। এমএন/জেআইএম
Go to News Site