Somoy TV
আন্তর্জাতিক কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট— এমনকি পিএসএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক লিগেও বহু বোলারের মুখোমুখি হয়েছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার সাদ মাসুদ। কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে কঠিন বোলার মনে হয়েছে বাংলাদেশের নাহিদ রানাকে।তরুণ এই পেসারের গতি ও আগ্রাসন দেখে বিস্মিত হয়েছেন সাদ মাসুদ। মাত্র ২১ বছর বয়সেই নাহিদ যেভাবে বল করেন, তা যেকোনো ব্যাটারদের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং। অবাক করার বিষয়, তার বিপক্ষে সাদ খেলেছেন মাত্র পাঁচটি বল। কিন্তু সেই সংক্ষিপ্ত সময়টুকুই নাকি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হয়ে আছে। নাহিদ রানার প্রতিটি ডেলিভারিতেই ছিল গতি, নিয়ন্ত্রণ আর অপ্রত্যাশিত বাউন্স— যা ব্যাট হাতে টিকে থাকাটাই কঠিন করে তোলে। তাই অল্প সময়ের এই অভিজ্ঞতাই সাদ মাসুদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। সম্প্রতি পাকপ্যাশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সাদ মাসুদ। গত ১৫ মার্চ মিরপুরে পাকিস্তানের জার্সিতে অভিষেক হয় রাওয়ালপিন্ডির এই ক্রিকেটারের। সেই ম্যাচেই প্রথমবারের মতো তিনি মুখোমুখি হন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানার, খেলেন তার মাত্র পাঁচটি ডেলিভারি। কিন্তু অল্প সেই সময়ই তাকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। আরও পড়ুন: ক্রিকেটে নতুন কেলেঙ্কারি, বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের নেপথ্যে ভারতীয় গ্যাংস্টার! ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কঠিন বোলারের প্রশ্নে সাদ বিন্দুমাত্র দ্বিধা না রেখে নাহিদ রানার নামই উচ্চারণ করেন। তার ভাষায়, নাহিদের বিপক্ষে ব্যাটিং করা ছিল একদম আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ। এই পেসারের কাঁচা গতি আর অপ্রত্যাশিত বাউন্স খেলাটিকে অন্য এক মাত্রায় নিয়ে যায়, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। ‘নাহিদ রানার মুখোমুখি হওয়াটা ছিল একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের এই গতিময় বোলারের রো পেইস ও বাউন্স অন্য বোলারদের তুলনায় খেলায় এক ভিন্ন মাত্রার তীব্রতা এনে দিয়েছিল। অন্য পেসারদের চেয়ে সে একেবারেই আলাদা।’ পাকিস্তানের জার্সিতে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ওয়ানডে খেলেছেন সাদ মাসুদ, আর সেটিই ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ। সিরিজ নির্ধারণী সেই লড়াইয়ে চাপের মুখে ব্যাট হাতে নামতে হয়েছিল তাকে। এমন পরিস্থিতিতে সালমান আগার সঙ্গে গড়ে তোলেন একটি জুটি, যা দলকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি সাদ। ৪৪ বলে ৩৮ রান করার পর মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পরই ম্যাচের গতি বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত ১১ রানের জয় নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। আরও পড়ুন: চমক নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির স্কোয়াড ঘোষণা সাদের মতে, তার আউটটাই ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেছিল। সেই মুহূর্তটিকে এখনো নিজের ভুল হিসেবে দেখেন তিনি, আর এ কারণেই এই ম্যাচের স্মৃতি তাকে এখনো কিছুটা আক্ষেপে রাখে। অভিষেক ম্যাচের ফলাফল হতাশাজনক হলেও, মিরপুরের সেই দিনটি সাদ মাসুদের কাছে এখনো বিশেষ এক স্মৃতি হয়ে আছে। কারণ, ছোটবেলা থেকে যে স্বপ্ন লালন করেছেন পাকিস্তানের হয়ে খেলার— সেই স্বপ্নেরই বাস্তবায়ন ঘটেছিল ওই ম্যাচে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের জার্সি গায়ে তোলা শুধু তার নিজের জন্যই নয়, পরিবারের জন্যও ছিল এক আবেগঘন ও গর্বের মুহূর্ত। ‘ক্রিকেট শুরু করার পর থেকে একটাই স্বপ্ন ছিল— কবে পাকিস্তানের অভিষেক ক্যাপ পাবো। আমার জন্য ও আমার পরিবারের জন্য এটা অনেক বড় একটা মুহূর্ত ছিল।’ তবে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন এই তরুণ ক্রিকেটার। তার মতে, প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি তিনি। চেষ্টা করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু কিছু ভুলের কারণে দলকে ভুগতে হয়েছে— এমনটাই মনে করেন সাদ। ‘তবে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আমি চেষ্টা করেছিলাম, আমার ভুল ছিল। যার কারণে সিরিজটাও হেরে যাই। আগা (সালমান আলী আগা) ভাইয়ের সাথে ভালো একটা পার্টনারশিপ করেছিলাম।’মাত্র ২১ বছর বয়সী এই লেগ-স্পিনিং অলরাউন্ডার বর্তমানে পিএসএলে রাওয়ালপিন্ডির হয়ে খেলছেন।
Go to News Site