Somoy TV
শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে ইরানের প্রতি একটি জরুরি আবেদন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আট ইরানি নারী বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার অনুরোধ করে তিনি বলেছেন, ইরানের নেতাদের কাছে তার অনুরোধ—এই নারীদের মুক্তি দেয়া হোক। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দয়া করে তাদের কোনো ক্ষতি করবেন না।’ এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা তার। এই বার্তাটি তিনি আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন। এর সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসরাইলপন্থি অধিকারকর্মী ইয়াল ইয়াকোবির একটি পোস্টও শেয়ার করেন। সেখানে দাবি করা হয়, আট ইরানি নারী বন্দিকে ফাঁসিতে ঝোলানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এই অনুরোধের পেছনে কারণ হলো—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সঙ্গে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জারেড কুশনারের এই আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সম্মতি দেয়নি। তাদের শর্ত হলো—যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে। আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত নয়: পাকিস্তান বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হবে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তান এরই মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। কিন্তু ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ জানালেও ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যোগ দেয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কিছু জানায়নি। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) হরমুজে একটি ইরানি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর ইরান মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘পুনরায় আগ্রাসন’ করার অভিযোগ তুলে আলোচনায় যাবে না বলে জানায়। এদিকে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, পাকিস্তান ‘দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য ইরানি নেতৃত্বকে রাজি করাতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে’। আরও পড়ুন: হাত ট্রিগারেই আছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীও সম্পূর্ণ প্রস্তুত: ইরান তিনি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ‘ইরানিদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছে এবং কূটনীতি ও সংলাপের পথ অনুসরণ করছে’। তিনি আরও যোগ করেন যে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে আলোচনায় যোগ দেয়ার বিষয়ে ইরানের সিদ্ধান্ত ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। এদিকে ইরানের সাথে কোনো চুক্তি না হলে সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতির সময়টিকে তাদের সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে ব্যবহার করেছে এবং তার নির্দেশ পেলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। জবাবে তেহরানের হাত ‘ট্রিগারেই আছে’ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীও ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি বলেছেন, ‘আমরা আর আক্রান্ত হতে চাই না। তবে আবার যদি হামলা হয়, আমরা অবশ্যই আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে জবাব দেব।’
Go to News Site