Somoy TV
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে, লিগ শিরোপাও প্রায় হাতছাড়া হয়ে গেছে— বলতে গেলে এই মৌসুমটা শেষ করতে হবে বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই। রিয়াল মাদ্রিদের এমন করুণ অবস্থার পর নতুন মৌসুমে ডাগআউটে থাকবেন কী আরবেলোয়া? হয়তো বা না, কেননা হতাশাজনক একটা মৌসুম পার করার কোচ আরবেলোয়াকে আর রাখতে চাইবে না রিয়াল মাদ্রিদ। তবে নতুন মৌসুমে লস ব্লাঙ্কোসদের ডাগআউটের দায়িত্ব সামলাবেন কে? সেই প্রশ্নই এখন উঁকি মারছে ফুটবল ভক্তদের মনে।লা লিগাতে পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সাত ম্যাচ বাকি থাকতেই নয় পয়েন্টে এগিয়ে বার্সেলোনা, ফলে তাদের শিরোপা জয় এখন প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে শিরোপাহীন একটি মৌসুম শেষ হওয়ার আশঙ্কা জোরালো, আর সেই কারণেই আলভারো আরবেলোয়ার দায়িত্বে থাকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপেই রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আকাশে যেন এখন পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা থেকেই বিদায় নিয়েছে রিয়াল, আর লিগ টেবিলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে তারা। ফলে টানা দ্বিতীয় মৌসুম বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই শেষ করার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ব্যর্থতার দায় বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়ার দিকেই যাচ্ছে। স্প্যানিশ গণমাধ্যম ফুটবল স্পানা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ খুব শিগগিরই আরবেলোয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। সেই আলোচনাই নির্ধারণ করে দিতে পারে, আগামী মৌসুমে ডাগআউটে কাকে দেখা যাবে। আরও পড়ুন: ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জেতার এটিই সঠিক সময় : কাফু যদিও ড্রেসিংরুমের একটি অংশ এখনো আরবেলোয়ার প্রতি আস্থা রাখছে, তবে ক্লাবের ভেতরের পরিস্থিতি ততটা সরল নয়। ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানোর মতে, কিছু সমর্থন থাকলেও নতুন মৌসুমে আরবেলোয়ার দায়িত্বে থাকা এখন অনিশ্চিতই নয়, প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে পেরেজ ইতোমধ্যেই নতুন নেতৃত্বের বিকল্প নিয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবতে শুরু করেছেন। মৌসুম শেষে যদি কোচ পরিবর্তন করে রিয়াল মাদ্রিদ, তবে আলভারো আরবেলোয়ার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন? এই আলোচনায় বেশ কয়েকটি নাম ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে। তাদের মধ্যে অন্যতম মাউরিসিও পচেত্তিনো, যিনি অতীতেও রিয়ালের কোচ হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। আর্জেন্টাইন এই কোচকে ঘিরে সম্প্রতি আলোচনা হয়েছে রেডিও মার্কার ‘লা ত্রিবু’ অনুষ্ঠানে। সেখানে বিভিন্ন বিশ্লেষক পচেত্তিনোর সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানটির পরিচালক হাভিয়ের আমারো মনে করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা পচেত্তিনোর রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই পদে (রিয়াল মাদ্রিদের কোচ) আবেদন করার জন্য পচেত্তিনোর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে।’ প্যানেল সদস্য রিকার্ডো সেইরা বলেন, যদি তিনি দায়িত্ব নেন, তবে শুরু থেকেই সফল হওয়ার চাপটা তাকে সামলাতে হবে— কারণ রিয়ালের মতো ক্লাবে সেটাই স্বাভাবিক বাস্তবতা। ‘সে যদি আসে, সে জানে যে প্রথম দিন থেকেই তাকে ভালো খেলতে হবে, এটাই নিয়ম।’ আলোচনায় অংশ নেওয়া আরেক বিশ্লেষক রিকার্ডো রোস্তে বলেন, পচেত্তিনোর আগ্রহও কম নয়। বরং সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ডাগআউটে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তিনি কখনোই লুকাননি। এমনকি এটি হতে পারে তৃতীয়বার, যখন তিনি প্রকাশ্যে রিয়ালের কোচ হওয়ার আগ্রহ দেখালেন। আরও পড়ুন: ‘মানুষ হিসেবে মেসি এক নম্বর, কিন্তু আমার বাবা ছিলেন ঈশ্বর’ ক্লাবের জেনারেল ম্যানেজার হোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজের কাছে পচেত্তিনো সবসময়ই একজন পছন্দের প্রার্থী ছিলেন। রামোন আলভারেজ দে মন স্মরণ করে বলেন, ‘একটি চুক্তি ছিল, যা তাকে টটেনহ্যামের সাথে বেঁধে রেখেছিল এবং রিয়াল মাদ্রিদ লেভির সাথে আলোচনা করতে রাজি হয়নি, কারণ তারা (বেল বা মদ্রিচের ঘটনা থেকে) আগেই জানত এর অর্থ কী। তাকে সেখান থেকে বের করে আনার জন্য লেভি যা দাবি করছিলেন তা ছিল অযৌক্তিক।’ রামোন আলভারেজ দে মন বলেন, ‘তিনি (পচেত্তিনো) যে বার্নাব্যুর বেঞ্চে বসতে চান, তা তিনি কখনো গোপন করেননি। এটা তৃতীয়বার হতে পারে যে তিনি এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’ রিয়াল মাদ্রিদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় কোচ নিয়োগ। ক্লাবের চাহিদার সঙ্গে মানানসই বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল কোচের নাম ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। লিভারপুলের সাবেক এই কোচের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং শিরোপা জয়ের সফল রেকর্ড তাকে রিয়াল মাদ্রিদের কর্তাদের কাছে আকর্ষণীয় প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে। এছাড়া আলোচনায় আছেন মাউরিসিও পচেত্তিনো। তবে তার বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের অভাব এবং এমেরির আগে পিএসজির ড্রেসিংরুম সামলাতে গিয়ে পুরোপুরি সফল না হওয়ার অভিজ্ঞতা রিয়াল মাদ্রিদের সিদ্ধান্তকে কিছুটা জটিল করে তুলছে। অন্যদিকে, ট্রান্সফার বাজারেও দলটি এক সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ও একজন মিডফিল্ডার দলে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। তবে আপাতত ক্লাবের সবচেয়ে বড় ফোকাস কোচিং ইস্যু।
Go to News Site