Somoy TV
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতির দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যকার উত্তেজনা গড়িয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।দুপুরে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিকেলে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৪টার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড় থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সিটি কলেজের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় কলেজের সামনে আগে থেকে অবস্থান নেয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় উভয় পক্ষকে মাথায় হেলমেট পরে এবং হাতে কিরিচসহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে দেখা যায়। এছাড়া একে অপরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। সংঘর্ষের জেরে আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ শাখার প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম দাবি করেন, হামলায় তাদের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আশরাফ হোসেন নামে এক কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে গুরুতর অবস্থায় নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম জানান, সামি মো. আলাউদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থীকে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে সেলাই দেয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে বাসায় নিয়ে গেছেন। আরও পড়ুন: দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রাফিতি মুছে সেখানে গুপ্ত লেখা হয়েছে। তারা যদি গুপ্ত না হয়, তাহলে তাদের কেন গায়ে লাগল!’ এ ঘটনার পর নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন জানান, বিকেলের সংঘর্ষের পর ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতিতে লেখা ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ স্লোগানের ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেয় একদল যুবক। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতারাই এটি করেছে। এই লেখাকে কেন্দ্র করেই মঙ্গলবার সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি কয়েক দশক ধরে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত ৫ আগস্টের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসটিকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণার দাবি জানালেও, সম্প্রতি ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল উভয় সংগঠনই সেখানে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালালে এই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
Go to News Site