Collector
ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ | Collector
ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
Jagonews24

ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় সংগঠনই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের পর সন্ধ্যা থেকে দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিতে শুরু করে। শিবির নেতারা দাবি করেছেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। আদর্শিক বিরোধের জেরে তাদের কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা এবং ক্যাম্পাসে ভিন্নমত দমনে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেছেন, শিবির আগে থেকে উত্তেজনা তৈরি করে পরিস্থিতি সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়। একটি সাধারণ বিষয়কে কেন্দ্র করে শিবির ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে তারা নিজেদের আহত দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কলেজ ক্যাম্পাসের দেয়ালে লেখা গ্রাফিতি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকে উত্তেজনা চলছিল। সেই উত্তেজনার জের ধরেই মঙ্গলবার দুপুরে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, দুপুর ১২টার দিকে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। শিবিরের মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা করে। এতে আমাদের ১৫-১৬ জন ভাই আহত হয়। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’ জানতে চাইলে মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের মোটামুটি ১০-১২ জন আহত হয়েছে। তারা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শিবির-জামায়াত একত্রে জড়ো হয়ে আমাদের ধাওয়া দিলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলি মাত্র।’ সংঘর্ষের জেরে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকরা প্রথমে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত ফোর্স ছিল। উত্তপ্ত পরিস্থিতি আমরা সফটলি হ্যান্ডেল করে নিয়ন্ত্রণে এনেছি, যা আপনারা মিডিয়াতে দেখেছেন।’ এমআরএএইচ/একিউএফ

Go to News Site