Somoy TV
নাটোরে পেট্রল পাম্পগুলোতে চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক পাম্পে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত ডিজেল পাচ্ছেন না তারা। কোথাও কোথাও কৃষকদের লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতির দাবি, হঠাৎ করে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।নাটোর সদর উপজেলার কৃষ্টপুর এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম দুই বিঘা জমিতে পাটের বীজ রোপণ করেছেন। জমিতে আংশিক সেচ দেয়ার পর ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তার সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই ডিজেলের খোঁজে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, সেচ দিতে না পারলে পাটের বীজ থেকে গাছ বের হবে না। এতে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটে চরাঞ্চলে ব্যাহত সেচ কার্যক্রম, ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা শুধু শরিফুল ইসলামই নন, নাটোরে ডিজেলচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারকারী অধিকাংশ কৃষকের একই অবস্থা। ভোরের আলো ফুটতেই পেট্রল পাম্পগুলোতে লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন তারা। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর কেউ কেউ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার ডিজেল পাচ্ছেন। হালতি বিল এলাকার কৃষক রফিক জানান, ধানের জমিতে সেচ দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। শহরের দুটি পেট্রল পাম্পে কৃষকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। স্টেশন বাজারের মেসার্স ফ্রেন্ডস পেট্রলিয়াম এজেন্সির পাম্পে কৃষকদের তুলনায় যানবাহনকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে যানবাহনে তেল দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের বলা হচ্ছে, দুপুরের পর ডিজেল দেয়া হবে। এ বিষয়ে পেট্রল পাম্পের ট্যাগ অফিসার উপ-প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, যানবাহনের চাপ ও কর্মচারী সংকটের কারণে কৃষকদের ডিজেল দিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে দুপুরের পর কৃষকদের ডিজেল দেয়া হবে; এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আরও পড়ুন: জ্বালানির অভাবে অর্ধশত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, তীব্র হচ্ছে লোডশেডিং অন্যদিকে শহরের তেবাড়িয়া এলাকার ইউনাইটেড পেট্রল পাম্পেও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে ডিজেল থাকলেও ট্যাগ অফিসার দাফতরিক কাজে না আসায় কৃষকদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ বিষয়ে ইউনাইটেড পেট্রল পাম্পের ম্যানেজার সাদেকুল ইসলাম বলেন, ট্যাগ অফিসার ডিজেল দেয়ার অনুমতি দিলেও মালিকপক্ষের অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরে সময় সংবাদের উপস্থিতিতে কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ শুরু করা হয়। নাটোর জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তেল সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। তবে হঠাৎ করে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণের বেশি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেন এই অতিরিক্ত চাহিদা বেড়েছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের পাশাপাশি ৩৯ হাজার ২০০টি ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে কৃষকরা জমিতে সেচ দিয়ে থাকেন।
Go to News Site