Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। জন্ম নিয়ন্ত্রণে ‘লাল বাতি’ - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনায় গর্ব করার মতো ঈর্ষণীয় জাতীয় সাফল্য এখন ম্লান হওয়ার পথে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের অবহেলা, অমনোযোগ ও গাছাড়া ভাবে পুরো জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তথা পরিবার পরিকল্পনায় ‘লাল বাতি’র দশা। জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল কিংবা কনডমসহ বিভিন্ন উপকরণের স্টক প্রায় ফুরিয়ে এখন তা চরম ঝুঁকিপূর্ণ স্তরে এসে ঠেকেছে। খোদ পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের (এসসিএমপি) মনিটরিং ড্যাশবোর্ডে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এসব উপকরণের স্থলে ‘লাল চিহ্ন’ দৃশ্যমান হয়ে রয়েছে; যার অর্থ, মাঠ পর্যায়ে প্রায় সব উপজেলায় কনডম, বড়ি, ইমপ্লান্ট, আইইউডির মজুত প্রায় শূন্যের কোঠায়। পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিচালক (উপকরণ ও সরবরাহ) মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, মনিটরিং ড্যাশবোর্ডে ‘লাল’ হয়ে থাকার অর্থ হলো মজুত নেই বা মজুত তিন মাসের কম। আর ‘হলুদ’ সংকেত নির্দেশ করে মজুত তিন থেকে সাড়ে পাঁচ মাস পর্যন্ত রয়েছে। ছয় মাসের বেশি মজুত থাকলে সংকেত হবে ‘সবুজ’।অনলাইনে তেল কালোবাজারির ৩০০ চক্র - দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাগবে কতোটুকু আপনার? যতটুকু চান দেয়া যাবে, প্যারা নাই। অকটেন ৪৫০ টাকা। অনলাইনে ফেসবুক মার্কেট প্লেসে অকটেন বিক্রির সেল পোস্টে মেসেজ দিতে এমনি সাড়া দেন এক ব্যক্তি। পরিচয় গোপন করে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- বন্ধুরা মিলে বাইক ট্যুরে যাবো তাই অনেক তেল লাগবে। ১০টি বাইকে ১২ লিটার করে দিতে পারবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকে ২০ দিতে পারবো। কালকে ৩০ দিব আর পরশুও একই পরিমাণ ম্যানেজ করে দিতে পারবো। অনলাইন মার্কেট প্লেসে গিয়ে ‘ফ্রেশ অকটেন’ নামের এই একটি গ্রুপে তেল কালোবাজারির এই গ্রুপটির সন্ধান পাওয়া যায়। তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তেল সংগ্রহের জন্য একটি মোবাইল নম্বরও দিয়েছেন।ঢাকাসহ সারা দেশে জ্বালানি তেলের হাহাকারের মধ্যে তীব্র রৌদ্র-গরমে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ তেল পাচ্ছে না। অথচ অনলাইনে তেল কালোবাজারি চক্রের সদস্যরা বিজ্ঞাপন দিয়ে অনলাইনে তেল বিক্রি করছে। আর সেটাও বাজার মূল্যের চেয়ে তিনগুণ দামে। গত দুইদিনে এ রকম একাধিক চক্রের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করা হয়। তাদের সঙ্গে কথা বলে এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল তাদের কাছে মজুত থাকে। এছাড়া চাহিদা দিলে তারা সেটি ম্যানেজও করে দিতে পারে। সূত্রগুলো বলছে, জ্বালানি তেল পেতে যখন ক্রেতারা চব্বিশ ঘণ্টা ঘাম ঝরাচ্ছে, তখন অনলাইনকেন্দ্রিক মৌসুমি চক্রগুলো মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। ফেক আইডি খুলে, অনেকে পেজ তৈরি এবং ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে সেল পোস্ট দিয়ে অকটেন বিক্রি করে। মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নানামুখী চাপে ঢাকা - দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার নিয়েছে। এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বহুমুখী চাপে পড়েছে। একসঙ্গে সামনে এসেছে জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ। চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই গত ২৮শে ফেব্রুয়ারির আকস্মিক বিমান হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশ্ব জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এতে অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াও ছিল সীমিত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের সমালোচনা করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে সরাসরি অবস্থান অনুপস্থিত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বাংলাদেশের কূটনৈতিক দ্বিধার ইঙ্গিত বহন করে। বাংলাদেশের ওপর এই যুদ্ধের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি দেশের জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। যা দেশের পরিবহন খরচ, উৎপাদন ব্যয় এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে। লোডশেডিং মানেই গ্রাম, স্থায়ী হচ্ছে বিদ্যুৎবৈষম্য - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান খবর এটি।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গরমের সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের ঘাটতি। বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট পার হচ্ছে। তবে উৎপাদন করা যাচ্ছে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ঘাটতি মেটাতে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে, যার প্রায় পুরোটাই চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে গ্রামের মানুষের ওপর। পরিকল্পনা করেই লোডশেডিংমুক্ত রাখা হচ্ছে ঢাকা শহরকে। বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কয়েক বছর ধরেই গ্রীষ্ম মৌসুমে নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। আর বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে শুরুতেই সরবরাহ কমানো হয় গ্রামে। ঘাটতি বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে শহরে কিছু লোডশেডিং করা হয়। তবে তা গ্রামের তুলনায় অনেক কম। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ফের তৎপর - দৈনিক যুগান্তেরের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ফের তৎপর হয়ে উঠেছে। বিদেশে বসেই নাড়ছে কলকাঠি। যখন যাকে দরকার দিচ্ছে ফোন, চাইছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। কখনো দেশে থাকা সহযোগী সরাসরি গিয়ে ফোন ধরিয়ে দিচ্ছেন। বলা হচ্ছে ‘বড় ভাই’ কথা বলবেন। অগত্যা পিলে চমাকানো হুমকি। দিতে হবে মোটা অঙ্কের চাঁদা, না দিলে খবর আছে। টাকা দিতে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে দিনক্ষণ। রাজি না হলে বলা হচ্ছে, ‘চাঁদা না দিলে জীবন দিবি। যে কোনো একটা দিতেই হবে।’ ভুক্তভোগীদের অনেকে ভয়ে পুলিশ তো দূরের কথা, কোথাও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে এ রকম শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অনেকে।খুনের মতো গুরুতর অপরাধ বেড়েছে - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক কলহ, আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার, জমি সংক্রান্ত বিরোধে খুনের ঘটনা ঘটছে। কোথাও স্বজনের হাতে হত্যার শিকার হচ্ছে আপনজন। গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বেও ঘটছে প্রাণহানি। দেশের পাঁচ জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড় থেকে গতকাল মঙ্গলবার তিন ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই ছেলেমেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। ফেনীর দাগনভূঞায় ছোট ভাইয়ের রডের আঘাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইয়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সদরদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে সারাদেশে ৮৪৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতি মাসে খুনের ঘটনা ২৮১টি। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে খুনের ঘটনা ছিল ৭৫৩টি। ডাকাতি-ছিনতাইয়ে সন্ত্রস্ত মানুষ - দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই-এই তিন ধরনের অপরাধ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এতে আতঙ্কিত মানুষ। সড়ক, মহাসড়ক-এমনকি বাসাবাড়িতেও হানা দিয়ে চলছে লুটতরাজ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে এসব অপরাধমূলক ঘটনায় ৫৭৬টি মামলা হয়েছে। এই হিসাবে প্রতি মাসে মামলা ১৯২টি। প্রতিদিন গড়ে মামলা ছয়টির বেশি। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে এসব অপরাধমূলক ঘটনায় সারা দেশে তিন হাজার ৫৪০টি মামলা হয়েছে। এই হিসাবে প্রতি মাসে মামলা ২২১টির বেশি। চালের দামে উল্টো পথে বাংলাদেশ - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে চালের দাম মানভেদে প্রায় ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কমলেও দেশের বাজারে উল্টো বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত। একইভাবে পাম অয়েল, মসুর ডাল, রসুনসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও বাংলাদেশে তা বেশি রয়েছে। সরকারের দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ভোক্তারা এর সুফল পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে-৫৭টি সরকারি ও ১১৬টি বেসরকারি। তবে বর্তমানে ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। এর মধ্যে ৩৫টি পাবলিক ও ১০৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল অনুষদ রয়েছে। এত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল শিক্ষা চালু থাকলেও আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বৈশ্বিক বিভিন্ন র্যাংকিং বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে দেশের মাত্র ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিতে পেরেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা খাতে কম বরাদ্দ, গবেষণা ও উদ্ভাবনে পর্যাপ্ত গুরুত্বের অভাব এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার ঘাটতির কারণেই মূলত দেশের প্রকৌশলবিদ্যায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না।
Go to News Site