Somoy TV
মাত্র ১০ বছর আগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রূপকথার গল্প রচনা করেছিল লেস্টার সিটি। ক্লদিও রানিয়েরির তত্ত্বাবধানে বাঘা বঘা ক্লাবকে পেছনে ফেলে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছিল ফক্সরা। অথচ সেই ক্লাবটিকেই কিনা আগামী মৌসুমে খেলতে হবে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর ইএফএল লিগ ওয়ানে। হামজা চৌধুরীদের এই অবিশ্বাস্য পতনে হতবাক ফুটবলবিশ্ব।২০২১ সালে এফএ কাপের শিরোপা ঘরে তোলার পর থেকেই লেস্টার সিটির দ্রুত পতন শুরু হয়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে হাল সিটির বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্র'র পর নিশ্চিত হয়ে যায় হামজারা ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তরে নেমে যাচ্ছে।২০১৬ সালে বুকিদের খাতায় ৫০০০-১ অডসে বিশ্বকে চমকে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জয় দিয়ে শুরু করে, দুই বছরের মাথায় ক্লাবের মালিক ভিচাই শ্রীবর্ধনাপ্রভার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যুর শোক; গত এক দশকে সব ধরনের আবেগের মধ্য দিয়েই গেছে ক্লাবটি। ২০১৫-১৬ মৌসুমে রানিয়েরির অধীনে রূপকথার জন্ম দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছিল লেস্টার সিটি। ছবি:রয়টার্স২০১৬-১৭ মৌসুমে লেস্টার সিটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলেছিল। অথচ এক দশক পর একই ক্লাবকে এখন খেলতে হবে এমন এক লিগে, যেখানে ব্রোমলের মতো দলও আছে, যারা তাদের ১৩৪ বছরের ইতিহাসের ১৩২ বছরই নন-লিগ ফুটবলে কাটিয়েছে। আরও পড়ুন: অগ্নিকাণ্ড থেকে জীবনযুদ্ধ, তারপর স্বপ্নপূরণ—ফরাসি তরুণের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনএখন প্রশ্ন হলো ১০ বছর আগে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতা ক্লাবটি কীভাবে এতো দ্রুত তৃতীয় বিভাগে নেমে গেল?–এই পতনের নেপথ্যের কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে বিবিসি।কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দ্রুত পতনের শুরু:২০২২ সালে প্রিমিয়ার লিগে অষ্টম স্থান অর্জন এবং উয়েফা কনফারেন্স কাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর তৎকালীন কোচ ব্রেন্ডন রজার্স সতর্ক করেছিলেন, ক্লাবকে নিজেদের প্রত্যাশা বদলাতে হবে।কোভিড মহামারির বড় প্রভাব পড়েছিল ভিচাইয়ের মালিকানাধী কিং পাওয়ারের ওপর, যা লেস্টার সিটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান। বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই প্রভাব তখনও কাটেনি। ২০২২-২৩ মৌসুমে টানা আট ম্যাচ জয়হীন শুরুর পর রজার্স বলেছিলেন, লেস্টারের এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ৪০ পয়েন্টে পৌঁছানো। হাল সিটির বিপক্ষে ড্রয়ে অবনমন নিশ্চিত হয়েছে লেস্টার সিটির। ছবি: পিএএটি ছিল তার আগের বক্তব্যগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ এর আগে লিভারপুলের সাবেক কোচ রজার্স প্রায়ই বলতেন, তারা প্রিমিয়ার লিগের প্রতিষ্ঠিত বড় দলগুলোর আধিপত্য ভাঙতে চায়।লেস্টার সেটা করতে খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলও। ২০২০ ও ২০২১ সালে টানা দুই মৌসুম শেষ দিনে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ হারায়। তবে, রজার্সের অধীনে তারা চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ জিতেছিল। কিন্তু মানসম্মত খেলোয়াড়ে বিনিয়োগের অভাবে সেই সাফল্যের পরই দ্রুত পতন শুরু হয়।তারকাদের ধরে রাখতে ব্যর্থতা এবং পরিকল্পনাহীনভাবে কোচ পরিবর্তন:লেস্টার সিটি যখন প্রিমিয়ার লিগে অবনমন ঠেকাতে লড়ছিল, তখনও তাদের দলে জেমি ভার্ডি, জেমস ম্যাডিসন এবং ইয়ুরি তিয়েলেমানসের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কোচ ব্রেন্ডন রজার্সকে বরখাস্ত করা হয়। তার জায়গায় অ্যাস্টন ভিলা ও নরউইচ সিটির সাবেক কোচ ডিন স্মিথকে দায়িত্ব দেয়া হলেও অবনমন থেকে বাঁচতে পারেনি ফক্সরা।রজার্স চলে যাওয়ার পর গত তিন বছরে লেস্টারের সাতজন ম্যানেজার বদল হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় সমস্যা ছিল এবং একের পর এক ভিন্ন ধাঁচের কোচ আনার ফলে ক্লাবের নিজস্ব কোনো পরিচয়ই গড়ে ওঠেনি।স্মিথের পর আসেন এনজো মারেস্কা, যিনি অন্তত ২০২৪ সালে দলকে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়ে এনেছিলেন। মারেস্কা চেলসিতে যোগ দিলে এরপর গ্রাহাম পর্টারকে আনার চেষ্টা ব্যর্থ হলে নিয়োগ দেওয়া হয় স্টিভ কুপারকে। পরে আসেন রুদ ফন নিস্টেলরয়, যিনি ২৭ ম্যাচে মাত্র ৫টি জয় পান।নতুন আর্থিক বছর শুরু হওয়ার পর গত জুলাইয়ে ফন নিস্টেলরয়কে বরখাস্ত করে মার্তি সিফুয়েন্তেসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আশা ছিল, তিনি ভাঙাচোরা দলটিকে আবার গুছিয়ে তুলবেন।সিফুয়েন্তেস দলকে ১৪তম স্থানে তুলেছিলেন, প্লে-অফ জোন থেকে মাত্র ৬ পয়েন্ট দূরে রেখেছিলেন। কিন্তু জানুয়ারিতে তাকেও বরখাস্ত করা হয়।সময় যত যাচ্ছে, সিফুয়েন্তেসকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ততই ভুল বলে মনে হচ্ছে। তার বদলি আনতে দেরি হওয়ায় ক্লাবের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ২৪ দিন পরে লেস্টার তাদের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি রোয়েটকে নিয়োগ দেয়, যিনি ডিসেম্বরেই রেলিগেশন প্রতিদ্বন্দ্বী অক্সফোর্ড ইউনাইটেড থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন।রোয়েটের অধীনে লেস্টারের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইংলিশ ফুটবল লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার কারণে ৬ পয়েন্ট কাটা গেলে তারা শুধু গোল ব্যবধানে রেলিগেশন জোনের বাইরে ছিল।আরও পড়ুন: তৃতীয় বিভাগে নেমে গেল হামজার দল লেস্টারসূত্রগুলো জানায়, ক্লাবের ভেতরে 'আমরা ঠিকই থাকব' ধরনের এক আত্মতুষ্ট সংস্কৃতি ছিল, যেটি ২০২৩ সালে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের সময়ও দেখা গিয়েছিল।গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) পোর্টসমাউথের কাছে হারের পর দলের পারফরম্যান্স দেখে ভেতরের লোকজন হতবাক হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে মিডফিল্ডার হ্যারি উইঙ্কস টিম বাসে ওঠার সময় সমর্থকদের সঙ্গে তিক্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ইংল্যান্ডের হয়ে ১০ ম্যাচ খেলা উইঙ্কসকে হাল সিটির বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামার সময় দর্শকরা দুয়োও দেন।মালিকের আকস্মিক মৃত্যুর প্রভাব:ভিচাই শ্রীবর্ধনাপ্রভার মৃত্যু যে কত বড় প্রভাব ফেলেছিল, তা কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। লেস্টার সিটি এখনও সেই ধাক্কা থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে ড্র করার পর লেস্টারের স্টেডিয়ামের বাইরেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ভিচাই মারা যান। মালিক ভিচাই শ্রীবর্ধনাপ্রভার অকাল মৃত্যু ক্লাবটির পতনের অন্যতম কারণ। ছবি: লেস্টার সিটিতিনি ২০১০ সালে মাত্র ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ডে লেস্টার কিনেছিলেন, ক্লাবের দেনা শোধ করেছিলেন এবং চার বছর পর দলকে শীর্ষ লিগে তুলেছিলেন। এরপর ২০১৫-১৬ মৌসুমে সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জয় ছিল ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা রূপকথা।লেস্টারের শিরোপাজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার রবার্ট হুথ বলেন, ‘তিনি ছিলেন ভীষণ প্রভাবশালী। তার মানসিকতা ছিল, “কাজটা করেই ফেলো।”’ভিচাইয়ের মৃত্যুর পর তার ছেলে আয়াওয়াত শ্রীবর্ধনাপ্রভা, যিনি ‘টপ’ নামে পরিচিত, ক্লাব ও পরিবারের ব্যবসার দায়িত্ব নেন।হুথ বলেন, ‘টপ আমার চেয়েও ছোট। তিনি তার বাবাকে হারিয়েছেন, এখন তাকে কিং পাওয়ার চালাতে হচ্ছে। সব নজর এখন তার ওপর। সমালোচনা করা খুব সহজ। তিনি সবার সামনে তার বাবাকে হারিয়েছেন, এটা অবশ্যই প্রভাব ফেলবে। অনেকেই সেটা ভুলে যায়। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তাকে কোম্পানির দায়িত্ব নিতে হয়েছে। একজন তরুণ হিসেবে আপনি আপনার বাবার কাছ থেকে দিকনির্দেশনা চান, আর সেটা এক রাতেই হারিয়ে গেছে।’লেস্টার পতন ঠেকাতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু বিভিন্ন সূত্র বলছে ক্লাবের ভেতরে দোষারোপের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে এবং খেলোয়াড় থেকে কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে।এছাড়াও অভিযোগ আছে, মালিক অতিরিক্তভাবে নির্ভর করছেন জন রুদকিনের ওপর। তিনি সদ্য পদোন্নতি পেয়ে চিফ ফুটবল অফিসার হয়েছেন এবং ৩০ বছর ধরে ক্লাবের সঙ্গে আছেন। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের সময়ও তিনি ফুটবল পরিচালক ছিলেন।হুথ বলেন, ‘আমি জনের সঙ্গে কাজ করেছি। তাকে সবসময়ই ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও সৎ মনে হয়েছে। তারা লেস্টারকে ভালোবাসে এবং ক্লাবের ভালো চায়, কিন্তু তাদের সাহায্য দরকার।’অবনমন নিশ্চিতের পর সমর্থকরা যা বলছেন:ফক্সেস ট্রাস্টের চেয়ারপারসন লিন ওয়েথ বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, ‘দলকে এত ভালো করতে দেখার পর এটা সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, অসম্ভবকে সম্ভব করতে দেখেছিলাম।’তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না কেউ সত্যিই ভাবত, আমরা প্রতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের জন্য লড়ব। আমরা এতটা বিভ্রান্ত নই। তবে একটা বাস্তব আশাবাদ ছিল যে, আমরা নিয়মিত ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার জায়গাগুলোর জন্য লড়তে পারব। এটা ধীরে ধীরে পতন নয়। এটা যেন সরাসরি নিয়ন্ত্রণহীন ধস, প্রায় ব্রেন্ডন রজার্সের সময় থেকেই। সবকিছু খুব দ্রুত ভয়াবহভাবে ভুল পথে গেছে। এখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে, আর কেউই জানে না কীভাবে এটা ঠিক করতে হবে।’আরেকটি অবনমনে যে আর্থিক ধাক্কা সামলাতে হবে:লেস্টার সিটির রেলিগেশন শুধু মাঠের ব্যর্থতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বড় ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তাও। ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত সর্বোচ্চ অনুমোদিত লোকসানের সীমা ২০.৮ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি অতিক্রম করায় ক্লাবটির ৬ পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। এরপর গত মাসে তারা আরও বিশাল লোকসান দেখায়; ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৭১.১ মিলিয়ন পাউন্ড!আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই দ্বিতীয় মৌসুমটি ছিল প্রিমিয়ার লিগে খেলার সময়। আরও পড়ুন: বার্নাব্যুতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, রিয়ালের রাডারে পচেত্তিনো২০২৩-২৪ পর্যন্ত দুই মৌসুমে লেস্টারের পারিশ্রমিক-আয় অনুপাত ছিল ১০০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, তারা শুধু খেলোয়াড় ও কর্মীদের বেতন বাবদই আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করেছে।রেলিগেশনের মৌসুমে টিভি আয়ের কারণে এই অনুপাত ৮২ শতাংশে নেমে আসে, কিন্তু তারপরও দলে বেশ কয়েকজন উচ্চ বেতনের খেলোয়াড় ছিলেন। রেলিগেশনের পর ওই খেলোয়াড়দের চুক্তিতে বেতন কমার ধারা থাকলেও, চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টারেরই ছিল সবচেয়ে বেশি বেতনভোগী কয়েকজন ফুটবলার।যাদের বিদায় হতে পারে: ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক তারকা হ্যারি উইঙ্কসের মতো অনেকেই চলতি মৌসুম শেষে লেস্টার সিটি ছেড়ে যাবেন। ছবি: লেস্টার সিটি গ্রীষ্মে বেশ কয়েকজন বড় বেতনের খেলোয়াড়ের চুক্তি শেষ হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে আছেন: প্যাটসন ডাকা, রিকার্ডো পেরেইরা ও হ্যারি উইঙ্কস। তবে সমস্যা হলো, কিছু খেলোয়াড়ের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এখনো বহাল আছে। অলিভার স্কিপের চুক্তি ২০২৯ সাল পর্যন্ত। ইয়ানিক ভেস্তারগার্ড ২০২৪ সালে ৩১তম জন্মদিনের ঠিক আগে নতুন তিন বছরের চুক্তি পান। এসব খেলোয়াড়ের জন্য নতুন ক্লাব খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না।ঋণের বোঝা:লেস্টার সিটির বিপদ আরও ঘনীভূত হয়েছে ম্যাককুয়েরি গ্রুপ থেকে নেওয়া ঋণের কারণে। গত সেপ্টেম্বর মাসে লেস্টার ম্যাককুয়েরি গ্রুপের কাছে যায় টম ক্যানন, কেসি ম্যাকঅ্যাতের এবং জেমস জাস্টিনের ট্রান্সফার ফি থেকে ভবিষ্যতে পাওনা কিস্তি আগাম নিতে। জানুয়ারিতে তারা আরেকটি ঋণ নবায়ন করে, যাতে শেষ বাকি থাকা ‘প্যারাস্যুট পেমেন্ট’ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।চেয়ারম্যান আয়াআওয়াত শ্রীবর্ধনাপ্রভা (‘টপ’) আগে শত শত মিলিয়ন পাউন্ড ঋণ মওকুফ করেছিলেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতের আয় আগাম তুলে খরচ চালাতে ম্যাককুয়েরি গ্রুপের অর্থায়নের ওপর ক্লাব অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।লিগ ওয়ানেও টিকে থাকা কঠিন:আগামী মৌসুমে লিগ ওয়ানে টেলিভিশন আয় অনেক কম হবে। ফলে ভবিষ্যতের আয় বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার সুযোগও একসময় শেষ হয়ে যাবে। পরের মৌসুম থেকে লীগ ওয়ানের ক্লাবগুলো অতিরিক্ত ফুটবল আয়ের (যেমন পুরস্কার অর্থ, কাপ প্রতিযোগিতার আয় বা ট্রান্সফার ফি) মাত্র ৬০ শতাংশ খেলোয়াড়-সংক্রান্ত খরচে ব্যয় করতে পারবে। লেস্টারের অনেক খেলোয়াড় এখনও লীগ ওয়ানের মানদণ্ডে আকাশছোঁয়া বেতনে চুক্তিবদ্ধ। তাই এই নিয়ম মেনে চলা তাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়বে।সব মিলিয়ে এক সময়ের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি গভীর সংকটে পড়ে গেছে।
Go to News Site