Collector
হজে গিয়ে মাসিক শুরু? জেনে নিন করণীয় | Collector
হজে গিয়ে মাসিক শুরু? জেনে নিন করণীয়
Jagonews24

হজে গিয়ে মাসিক শুরু? জেনে নিন করণীয়

‘হজ’ প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি শুধু ধর্মীয় কর্তব্য নয়, বরং আবেগ, আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের এক অনন্য যাত্রা। তবে এই পবিত্র সফরে নারীদের একটি স্বাভাবিক শারীরিক বিষয় ‘মাসিক বা ঋতুচক্র’ অনেক সময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হঠাৎ মাসিক শুরু হলে কী করবেন, কোন ইবাদত করা যাবে, কী করা যাবে না -এসব প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। চলুন তাহলে জেনে নেই হজে গিয়ে মাসিক শুরু হলে নারীদের করণীয়, ইসলামের বিধান এবং বাস্তব কিছু পরামর্শ। মাসিক: স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, লজ্জার কিছু নয় প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি, মাসিক নারীর স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। ইসলামও এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই হজের সময় মাসিক শুরু হলে এটি নিয়ে লজ্জা বা অপরাধবোধে ভোগার কোনো কারণ নেই। বরং সঠিক জ্ঞান থাকলে আপনি আপনার ইবাদতগুলো পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। হজে মাসিক হলে কোন ইবাদত করা যাবে না? মাসিক অবস্থায় কিছু নির্দিষ্ট ইবাদত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। যেমন- তাওয়াফ (কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ) করা যাবে না নামাজ আদায় করা যাবে না রোজা রাখা যাবে না (যদি ঐ সময় রমজান হয়) সরাসরি কোরআন স্পর্শ করা যাবে না এগুলো ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান। তাই মাসিক অবস্থায় এসব ইবাদত না করতে পারলেও চিন্তার কিছু নেই, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকেই ছাড়। যে ইবাদতগুলো করা যাবে যিকির, দোয়া ও তাসবিহ পড়া দরুদ শরিফ পাঠ করা কোরআন না ছুঁয়ে মুখস্থ তিলাওয়াত করা (অনেক আলেম অনুমতি দিয়েছেন) ইসলামী বই পড়া বা দোয়া শেখা অর্থাৎ, আপনি ইবাদত থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নন, শুধু কিছু নির্দিষ্ট আমল থেকে বিরত থাকবেন। আরও পড়ুন:  চিনি খেয়েও যেভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন ক্লান্ত হলেও কাজে মনোযোগ রাখবেন যেভাবে জানেন কি দ্রুত খাওয়া মানুষের ওজন বাড়ার ঝুঁকি বেশি তাওয়াফ না করতে পারলে কী হবে? হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো তাওয়াফ। কিন্তু মাসিক অবস্থায় এটি করা নিষিদ্ধ। তাই যদি এই সময় তাওয়াফের সময় এসে যায়, আপনি পবিত্র হওয়ার অপেক্ষা করবেন। মাসিক শেষ হলে গোসল করে তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। তবে অনেক সময় সময়সীমা বা ফ্লাইটের কারণে সমস্যা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা জরুরি। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আলেম বা গাইডের পরামর্শ নিতে হবে। ঔষধ ব্যবহার: করণীয় কি? অনেক নারী হজের সময় মাসিক পিছিয়ে দিতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে ওষুধ ব্যবহার করেন। তবে এখানে কিছু সতর্কতা জরুরি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হরমোনাল ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়, এতে শরীরের ওপর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাছাড়া সব নারীর শরীরে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। ইসলাম মাসিককে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাই শুধুমাত্র ইবাদতের সুবিধার জন্য শরীরের ক্ষতি করার মতো কিছু করা ঠিক নয়, এই দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। ইহরাম অবস্থায় মাসিক হলে কী করবেন? অনেকেই ভাবেন, ইহরাম অবস্থায় মাসিক শুরু হলে সমস্যা হবে। আসলে- ইহরাম অবস্থায় থাকলেও মাসিক হলে ইহরাম ভাঙে না। আপনি হজের অন্যান্য কাজ (যেমন-আরাফাতে অবস্থান, মুজদালিফায় যাওয়া) করতে পারবেন, শুধু তাওয়াফ থেকে বিরত থাকবেন। অর্থাৎ, হজের মূল কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন। মানসিক দুশ্চিন্তা: কীভাবে সামলাবেন? মাসিক শুরু হলে অনেক নারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, বিশেষ করে হজের মতো পবিত্র সময়ে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটি আল্লাহর নির্ধারিত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা আপনি ইচ্ছা করেও এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। আল্লাহ আপনার নিয়ত ও আন্তরিকতা দেখেন। তাই নিজেকে দোষারোপ না করে বরং এই সময়টাকে দোয়া, আত্মবিশ্লেষণ ও ধৈর্যের মাধ্যমে কাজে লাগান। বাস্তব কিছু প্রস্তুতি টিপস হজে যাওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নিলে মাসিক সংক্রান্ত ঝামেলা অনেকটাই কমানো যায়। যেমন- ক্যালেন্ডার ট্র্যাকিং: নিজের ঋতুচক্র আগে থেকে ট্র্যাক করুন, যেন সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে ধারণা থাকে। প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখুন: স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওষুধ, পরিষ্কার কাপড় সবসময় সঙ্গে রাখুন। স্বাস্থ্য সচেতনতা: গরম আবহাওয়া, দীর্ঘ হাঁটা সবকিছু মাথায় রেখে স্বাস্থ্য সচেতন থাকুন। গাইড বা সঙ্গীদের জানানো: বিশ্বাসযোগ্য কাউকে বিষয়টি জানালে প্রয়োজনে সাহায্য পাওয়া সহজ হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে সহজতা ইসলাম কখনো মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেয় না। বরং প্রতিটি বিধানের মধ্যেই রয়েছে সহজতা। মাসিক অবস্থায় ইবাদতের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এটি কোনো শাস্তি নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সুবিধা। সর্বোপরি হজে গিয়ে মাসিক শুরু হওয়া কোনো অস্বাভাবিক বা বিরল ঘটনা নয়। হাজার হাজার নারী প্রতি বছর এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন এবং সঠিক জ্ঞান ও ধৈর্যের মাধ্যমে তাদের হজ সম্পন্ন করেন। তাই ভয় বা দুশ্চিন্তা নয়; প্রস্তুতি, জ্ঞান ও ইতিবাচক মনোভাবই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় সহায়ক। মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার নিয়ত ও আন্তরিকতা দেখেন। আপনি যদি আন্তরিকভাবে হজ আদায় করতে চান, তাহলে সাময়িক এই শারীরিক অবস্থাও আপনার ইবাদতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, মায়ো ক্লিনিক, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) জেএস/

Go to News Site