Collector
নওগাঁয় চার খুনের ঘটনায় অভিযোগের তীর স্বজনদের দিকে, আরও যা জানা যাচ্ছে | Collector
নওগাঁয় চার খুনের ঘটনায় অভিযোগের তীর স্বজনদের দিকে, আরও যা জানা যাচ্ছে
Somoy TV

নওগাঁয় চার খুনের ঘটনায় অভিযোগের তীর স্বজনদের দিকে, আরও যা জানা যাচ্ছে

নওগাঁয় নিজ ঘর থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযোগের তীর উঠেছে স্বজনদের দিকে।বুধবার (২২ এপ্রিল) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রামেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন নিহত পরিবারের বাড়িতে। ঘটনাটি একেবারেই লোমহর্ষক হওয়ায় এর নেপথ্যের কারণ জানার জন্য কৌতূহলও বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। এর আগে গত সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একসঙ্গে দুই শিশুসহ চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন- গৃহকর্তা হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী পপি বেগম, ১০ বছরের শিশু পারভেজ এবং তিন বছরের কন্যা সাদিয়া আক্তার। ঘটনার পর থেকেই এর কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আরও পড়ুন: নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আতঙ্ক। অনেকেই জানতে চাইছেন কীভাবে ও কেন একসঙ্গে চারজনকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের হুমকি-ধমকি এবং পারিবারিক কোন্দলও ছিল। সব মিলিয়ে ঘটনাটির পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।  পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে। নিহতের স্বজনদের দাবি, কিছুদিন আগে হাবিবুর রহমান প্রায় আড়াই লাখ টাকা দিয়ে একটি গরু বিক্রি করেছিলেন। ওই টাকা খোয়া গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুট হওয়ার কথাও জানা যাচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই সন্দেহের তীর উঠছে পরিবারের ভেতরের দিকেও। পারিবারিক বিরোধ ও চলমান মামলা-মোকদ্দমাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। নিহতদের স্বজনদের ও এলাকাবাসীর বক্তব্যে উঠে এসেছে নানা আতঙ্ক ও ক্ষোভ। একজন স্বজন বলেন, ‘আমার ভাই সন্ধ্যা হোক, সকাল হোক; কোথাও যেতে পারত না। আমার মা বেঁচে থাকতে বলতেন, সন্ধ্যা হলেই বাড়ি চলে আসতে, না হলে মেরে ফেলবে।’ এলাকাবাসী বলেন, জমি নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে বিরোধ ছিল। এমন নির্মমভাবে দুধের বাচ্চাসহ সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা অপরাধীদের ফাঁসি চাই, ন্যায্য বিচার চাই। এদিকে এলাকাবাসী ও স্বজনরা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, সব দিক মাথায় রেখে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং খুব দ্রুতই রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে ফজরের নামাজের পর ছেলের ঘরের দরজায় রক্ত দেখতে পান নমির হোসেন। বিষয়টি তার সন্দেহজনক মনে হয়। ভেতরে ঢুকে তিনি দেখেন ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫), পুত্রবধূ পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩) এর নিথর দেহ বিছানায় পড়ে আছে। রক্তাক্ত দেহগুলো বিছানার চাদর দিয়ে ঢাকা। নমির হোসেনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর দেয়া হয় নিয়ামতপুর থানায়। পুলিশ এসে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠায়। আরও পড়ুন: নওগাঁয় চার খুন: ঘরের দেয়ালে লেখা ‘নমির তুই বেঁচে গেলি, এবার তোর পালা’ নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, হাবিবুর এবং তার স্ত্রীকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। আর তাদের দুই শিশু সন্তানের মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। নমির হোসেন জানান, খুনিরা ঘরের দেয়ালে লিখে গেছে ‌‘নমির তুই বেঁচে গেলি, দলিল দে। এবার তোর পালা।’ তিনি জানান, তার ছয় সন্তানের মধ্যে হাবিবুর একমাত্র ছেলে। জমিজমা নিয়ে তার এক মেয়ের জামাইর সঙ্গে হাবিবুরের দ্বন্দ্ব চলছিল। জমি সংক্রান্ত একাধিক মামলাও হয়েছে আদালতে। থানায়ও অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহজনকভাবে হাবিবুরের ওই বোনসহ পরিবারের ৮ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

Go to News Site