Collector
ট্রাম্প কেন ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন | Collector
ট্রাম্প কেন ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন
Somoy TV

ট্রাম্প কেন ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেলে হোয়াইট হাউসে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা টিমের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল—ইরানকে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।তার ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তন যাওয়ার জন্য এয়ার ফোর্স ‍টু প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়—ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়া। এর আগে গত কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে কিছু শর্ত পাঠিয়েছিল, যেগুলো পরবর্তী বৈঠকের আগে মানতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন কেটে গেলেও তেহরান থেকে কোনো জবাব আসেনি। এতে সন্দেহ তৈরি হয় যে, পাকিস্তানে সরাসরি বৈঠকে গেলে আদৌ কোনো অগ্রগতি হবে কি না। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বৈঠক করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফের সঙ্গে। তবুও তখন পর্যন্ত ইরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা তখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী আসিম মুনিরকে অনুরোধ করেন, ভ্যান্স এয়ার ফোর্স টুতে চড়ে বসার আগে অন্তত কোনো ধরনের সাড়া যেন পাওয়া যায়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরও কোনো উত্তর আসেনি। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানের ভেতরের নেতৃত্বে বিভক্তির কারণেই এই নীরবতা। তাদের ধারণা, ইরান এখনো ঠিক করতে পারেনি কী অবস্থান নেবে, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। আরও পড়ুন: প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার লোকসান হচ্ছে ইরানের, দাবি ট্রাম্পের আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিচ্ছেন কি না, নাকি তারা নিজেরাই অনুমান করে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানের শীর্ষ নেতার আড়ালে থাকার চেষ্টা দেশটির ভেতরের সরকারি আলোচনা ব্যাহত করছে। তবে এসব বাধা থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনো আছে। কিন্তু ঠিক কবে হবে, তা অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক হামলা আবার শুরু না করে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এবার তিনি নির্দিষ্ট কোনো শেষ সময়ও উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ইরানের সরকার ভেতরে ভেতরে বিভক্ত’। তিনি যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধান চান, কারণ নতুন করে তিনি অজনপ্রিয় সংঘাতে জড়াতে চান না। তবে আপাতত আলোচনা ভেঙে পড়েছে এবং তাতে নিজের শর্ত অনুযায়ী চুক্তি করতে গিয়ে ট্রাম্প কতটা কঠিন পরিস্থিতির মুখে আছেন, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।  ইরান বারবার প্রকাশ্যেই বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ না উঠলে তারা নতুন করে আলোচনায় বসবে না। কিন্তু ট্রাম্প তাতে রাজি নন। মঙ্গলবার সকালেও তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রণালী খুলব না।’ এরপর বিকেলের বৈঠকে ট্রাম্প ও তার টিম যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওয়াশিংটনের আশা, এতে হয়তো ইরান আলোচনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে এবং শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনির অনুমোদন নিতে কিছুটা সময় পেতে পারে, যদিও এর কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেই মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। আরও পড়ুন: অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের, ইরান রাজি কিনা স্পষ্ট নয় কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরান যদি আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দেয়, তাহলে খুব দ্রুত বৈঠকের ব্যবস্থা করা সম্ভব। কারণ প্রণালী বন্ধ থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই অনেকেই আশা করছেন, দ্রুত কোনো সমাধানে পৌঁছানোর চাপ দুই পক্ষের ওপরই আছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা একদিকে ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন—যতক্ষণ না ইরানের প্রস্তাব আসে এবং আলোচনা শেষ হয়। তবে ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধিকেও তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। ইরানের সংসদের স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদি বলেন, ‘ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো কোনো গুরুত্ব রাখে না। যে পক্ষ হেরে গেছে, সে শর্ত দিতে পারে না। অবরোধ চালিয়ে যাওয়া মানে বোমা হামলার মতোই, আর তার জবাব সামরিকভাবেই দেয়া হবে।’ ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চালু রাখার ঘোষণা দিলেও পুরো দিনটাই ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। কারণ দিনের শুরুতেই তিনি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘খুব শিগগিরই আবার ইরানে বোমা হামলা হতে পারে’। তবে নতুন কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না দেয়ায় ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন—চাপ কমে গেলে ইরান আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে পারে। অন্তত আলোচকরা এই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি কাঠামো বোঝাপড়া তৈরির আশা করেছিলেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশা ছিল, এই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তত একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে। এরপর ধাপে ধাপে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। কিন্তু এই পরিকল্পনার বিরোধীও ছিল। তারা সতর্ক করেন, ইরান ইচ্ছা করে আলোচনা দীর্ঘ করতে পারে, যাতে যুদ্ধের সময় লুকিয়ে রাখা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আবারও বের করে প্রস্তুত করা যায়। আরও পড়ুন: নৌ অবরোধের বিষয়ে নতুন যে তথ্য দিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী আলোচনায় এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঝুলে আছে, যেমন—ইরান ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে কি না, তাদের মজুত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কী হবে, আর দেশটির ওপর কোন কোন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত চুক্তি হবে কি না, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষ কতটা ছাড় দিতে রাজি তার ওপর। ট্রাম্পের জন্য বড় বিষয় হলো—এমন কোনো চুক্তি না করা, যেটা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্লান অব অ্যাকশন-এর মতো মনে হয়। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি থেকে তিনি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে এনেছিলেন এবং এটিকে ‘দুর্বল ও বাজে’’ বলে সমালোচনা করেন। গত কয়েক দিনে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তার আলোচনার দক্ষতায় তিনি এর চেয়ে ভালো চুক্তি করতে পারবেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে ভিয়েতনাম যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ করতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা শেষ পর্যন্ত খুব ভালো একটি চুক্তি পাব। তাদের (ইরান) কোনো উপায় নেই। আমরা তাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, এমনকি অনেক নেতাকেও সরিয়ে দিয়েছি—যা এক দিক থেকে পরিস্থিতি জটিলও করেছে।’ তবে কয়েক ঘণ্টা পর যখন তিনি হোয়াইট হাউসে কলেজ ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা দিচ্ছিলেন, তখন যুদ্ধ নিয়ে তিনি অস্বাভাবিকভাবে নীরব ছিলেন। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে তিনি শুধু হাত নেড়ে সেখান থেকে চলে যান।

Go to News Site