Jagonews24
ছাত্র যখন রেজাল্ট ভালো করতে থাকে, যে কোনো শিক্ষক হিসেবে তাকে নিয়ে কথা বলতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার নাহিদ রানা আর পেস বোলিং কোচ শন টেইটের ব্যাপারটাও তেমন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে সকাল ১১টায়। এর আগে আজ বুধবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে হওয়া ১৩টি প্রশ্নের ৫টিই হলো নাহিদ রানাকে নিয়ে। যার প্রত্যেকটি প্রশ্নে শন টেইট উত্তর দিলেন মন খুলে। তার মুখে ঠিকই ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছিল ঠিক কতখানি গর্বিত হচ্ছেন। নিজের সঙ্গে তুলনায় এগিয়ে রাখলেন রানাকে, এই গরমে এভাবে টানা ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করায় করলেন ভূয়সী প্রশংসা। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে গতির জন্য বিখ্যাত ছিলেন টেইট। ‘দ্য ওয়াইল্ড থিং’ এবং “স্লুন” নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল, ১২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সময়ে অবিশ্বাস্য গতির জন্যই আলোচনায় থাকতেন শন টেইট। নাহিদ রানাও ক্যারিয়ারের শুরু থেকে গতির জন্য আলোচনায় আছেন। পাকিস্তানের মাটিতে টেস্টের পর বাংলাদেশের মাটিতেও পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের গতি দিয়ে ঘায়েল করেছেন তিনি। শিষ্য রানার সঙ্গে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের মিল পেলেও রানাকেই এগিয়ে রাখছেন টেইট। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছু মিল তো অবশ্যই আছে, তবে পার্থক্যও আছে। নাহিদ খুবই ফিট একজন ক্রিকেটার। আমার চেয়ে সে অনেক বেশি ফিট। আমি তখন একটু ভারি ছিলাম, তাই দ্রুতগতিতে বোলিং করা আমার জন্য একটু কঠিন ছিল। কিন্তু নাহিদের ক্ষেত্রে সেটা তুলনামূলক সহজ মনে হয়, কারণ সে দারুণ অ্যাথলেটিক। সে বেশ ছিপছিপে, শক্তিশালী এবং একজন ফাস্ট বোলারের জন্য তার শারীরিক গঠন খুবই ভালো।’ বাংলাদেশে এখন বৈশাখ মাস চলে। সেক্ষেত্রে প্রচন্ড দাবদাহে সাধারণ জীবনই বিপর্যস্ত। সেখানে ইতিমধ্যে টানা দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন রানা, দুই ম্যাচেই করেছেন ১০ ওভার করে বোলিং। আগামীকাল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও খেলবেন এই পেসার। এই গরমে রানাকে টানা ৩ ম্যাচ খেলানো আদর্শিক কিনা? প্রশ্নে শন ভালো অ্যাথলেট আর ফিটনেসের কথাই উল্লেখ করেন। বরং রানা না থাকলে নিউজিল্যান্ড দল বাড়তি স্বস্তিতে থাকবে বলে মনে করেন এই অজি কোচ। তিনি বলেন, ‘এই কারণেই বিশেষ করে এমন গরম আবহাওয়ায় টানা ম্যাচ খেললেও তাকে নিয়ে আমার আত্মবিশ্বাস আছে। সে এটা সামলাতে পারবে বলেই মনে করি। আমার সময়টা একটু আলাদা ছিল—আমি হয়তো তার চেয়ে একটু বেশি চোটে পড়তাম। আমার মনে হয়, সে যেভাবে বোলিং করছে তাতে তার খেলতে কোনো সমস্যা নেই। সে পুরোপুরি প্রস্তুত।’ ‘ক্রিকেটে বিভিন্ন সময় থাকে—টুর্নামেন্টের আগে, পরে কিংবা মাঝে বিশ্রামের সময় পাওয়া যায়। তবে নাহিদ রানার ব্যাপারে আমি যেটা জানি, সে খুবই ফিট একজন ক্রিকেটার। সত্যিই দারুণ ফিট। সে যদিও খুব দ্রুতগতিতে বল করে, কিন্তু একই সঙ্গে সে অসাধারণ অ্যাথলেটও। বর্তমানে যেভাবে সে বোলিং করছে, তাতে প্রতিপক্ষ দলগুলো তাকে মোকাবিলা করতে খুব একটা স্বস্তি পাবে না। বরং নাহিদ রানা যদি দলে না থাকে, প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে সেটা তাদের জন্য স্বস্তির বিষয়ই হবে।’ এসকেডি/এমএমআর
Go to News Site