Collector
ঢামেকে ওটির এসি বিকল, ঘেমে ভিজে একাকার চিকিৎসক-নার্স-রোগী | Collector
ঢামেকে ওটির এসি বিকল, ঘেমে ভিজে একাকার চিকিৎসক-নার্স-রোগী
Somoy TV

ঢামেকে ওটির এসি বিকল, ঘেমে ভিজে একাকার চিকিৎসক-নার্স-রোগী

সংঘর্ষ, মারামারি, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা যেকোনো ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সর্বোচ্চা ও শেষ ভরসাস্থল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। সারাদিন নিউরোসার্জারি, ক্যাজুয়ালিটিসহ বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক রোগীর অস্ত্রোপচার হয় জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি)।চারটি টেবিলে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যান চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা। তবে অবাক করার বিষয় হলো, জনগুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে কয়েক ওটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) নষ্ট। কাজ চলছে, স্ট্যান্ড ফ্যান চালিয়ে। ফলে গরমে ঘেমে নিজেদেরই অসুস্থ হওয়ার উপক্রম সেবাদাতা ও গ্রহীতাদের। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, রোগী ও তাদের স্বজনরা। বুধবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগ দিয়ে ঢুকতেই হাতের ডান পাশে চার নম্বর কক্ষই অপারেশন থিয়েটার। সেই কক্ষে ঢুকতেই প্রথমে অবজারভেশন ওয়ার্ড। যেখানে রোগীদের পর্যবেক্ষণ এবং অপারেশনরে জন্য সিরিয়ালে অপেক্ষায় রাখা হয়। যার সাতটি বিছানার সবগুলোতেই রোগীরা অপেক্ষায় রয়েছেন। সঙ্গে তাদের স্বজনরাও। কক্ষের তিনটি এসির দেখা মেলে দেয়ালে। এসব এসি চালু থাকলেও বের হচ্ছে গরম বাতাস। মাথার ওপর ছয়টি ফ্যান ঘুরতে দেখা যায়। তবে যেই বাতাস গায়ে লাগছে, তাতে গুমট ভাব আরও বাড়ছে। এই কক্ষের ভেতর দিয়ে মূল অপারেশন থিয়েটারের দরজা। দরজা দিয়ে পা রাখতেই মনে হচ্ছিল, ‘কোনো কারখানার বয়লার রুম’ এটি। সেখানে কথা হয় অপেক্ষায় থাকা এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি জানান, আড়াই ঘণ্টা সিরিয়ালে বসে অপেক্ষা করার পর তার রোগীকে অপারেশন টেবিলে নেয়া হয়েছে। তার আঙুল কেটে গেছে। যেই বিছানায় বসে অপেক্ষা করছিলেন, সেখানে অতিরিক্ত গরম। এসি থাকলেও ঠান্ডা বাতাস বের হচ্ছে না। আর অপারেশন কক্ষে তো অসহ্য গরম। সেখানে টিকে থাকাই মুশকিল। দেড় ঘণ্টা ধরে অপারেশনের অপেক্ষায় অবজারভেশন কক্ষে বসে থাকা এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডের চাপ লেগে আমার পায়ের নখ থেঁতলে গেছে। রক্ত পড়ছে। এখানে এত রোগী, দেড় ঘণ্টায়ও আমি সিরিয়াল পাইনি। এরপর এখানে এত গরম। চিকিৎসা না নিয়েই চলে যেতে ইচ্ছে করছে। ভেতরে ছোট সরু ওটি রুমে চারটি টেবিলেই কাজ করছিলেন চিকিৎসকরা। তাদের প্রত্যেকের পরনের পোশাক ভিজে একাকার, যেন ‘এখনই গোসল করেছেন’। একটি মাত্র জানলা, সেটিও বন্ধ। মাথার ওপরে একটি এসি দেখা গেলেও সেটি বিকল। বিকল্প উপায় হিসেবে রোগীর পাশে স্ট্যান্ড ফ্যান চালিয়ে নিরলস কাজ করছেন চিকিৎসকরা। হাঁসফাঁস করতে দেখা যায় চিকিৎসকদের সহায়তা করতে থাকা নার্স ও কর্মচারীদেরও। তবে অদৃশ্য ভয়ে অসহ্য ভ্যাপসা গরমে কষ্টের কথা বলতেও অনীহা তাদের। আরও পড়ুন: রেফার বন্ধের নির্দেশ অমান্য, বাড়ছে হাম রোগীর চাপ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি দেশে এই অসহ্য গরম পড়তে থাকারও কয়েক মাস আগে থেকেই জরুরি অপারেশন থিয়েটারের এসি নষ্ট। ফ্যান চালিয়ে চিকিৎসকরা গুরুতর রোগীদের অস্ত্রোপচার করে আসছেন। দুর্ভোগের বিষয়টি বহুবার জানানো হয়েছে জরুরি বিভাগের নার্সিং ইনচার্জ ও আবাসিক সার্জনকে। তবে মেলেনি কোনো সুরাহা। ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা দেখভাল-সহ যাবতীয় সমস্যা সমাধান বা হাসপাতাল প্রশাসনকে জানানোর দায়িত্ব জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জনের। এই পদে রয়েছেন ডা. মোস্তাক আহমেদ। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কার্যালয়ে গিয়ে দেখা মেলেনি তার। মোবাইলফোনে কল করলে তিনি জানান, ওটিতে এসি নষ্টের বিষয়টি তার জানা নেই। উল্টো প্রশ্ন জুড়ে দিয়ে ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘কিন্তু আপনি অপারেশন থিয়েটারে গিয়েছেন কেন? আপনার তো ওখানে যাওয়ার কথা না।’ রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানালে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনে জানাব।’

Go to News Site