Collector
মালয়েশিয়ার কারাগার থেকে পালানো সেই পাকিস্তানি বন্দি ধরা পড়ল যেভাবে | Collector
মালয়েশিয়ার কারাগার থেকে পালানো সেই পাকিস্তানি বন্দি ধরা পড়ল যেভাবে
Somoy TV

মালয়েশিয়ার কারাগার থেকে পালানো সেই পাকিস্তানি বন্দি ধরা পড়ল যেভাবে

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের সুঙ্গাই বুলোহ কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া পাকিস্তানি বন্দি মুহাম্মদ হাসান (২৪)-কে ৯ দিনের অভিযানের পর আবারও গ্রেফতার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। গুরুতর অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই বন্দিকে ধরতে জটিল ও কৌশলী গোয়েন্দা জাল বিস্তার করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।গত ৯ এপ্রিল দেশটির শাহ আলম আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে স্থানান্তরের সময় কৌশলে নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পুলিশি ট্রাক থেকে পালিয়ে যান ওই বিদেশি নাগরিক। এরপর থেকেই তাকে ধরতে মাঠে নামে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশনস ডিভিশন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ডাকাতি এবং নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযানটির জটিলতা সম্পর্কে অভিবাসন বিভাগের ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশনস ডিভিশনের পরিচালক মোহাম্মদ আনাস মোহাম্মদ জারিব বলেন, ‘এটি ছিল মূলত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্যের সূত্র মিলিয়ে পাজল মেলানোর মতো।’ তদন্তকারী দল মালয়েশিয়া ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথমে সন্দেহভাজনের সম্ভাব্য ঠিকানায় অভিযান চালায়। যদিও সরাসরি তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি, তবে এই সূত্র থেকেই গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন যে, পলাতক ব্যক্তি পশতুন বংশোদ্ভূত। এই একটি তথ্যই তদন্ত প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট করতে সহায়তা করে। লুকিয়ে থাকার অভিনব কৌশল গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ধৃত ব্যক্তি জানিয়েছেন, ধরা পড়ার ভয়ে টানা সাত দিন দিনের বেলায় নির্মাণস্থলের পাশের ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে রাতের অন্ধকারে তিনি নির্মাণাধীন স্থাপনায় গোপনে প্রবেশ করতেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে ওই নির্মাণস্থল থেকেই পোশাক চুরি করে পরতেন। আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ২ কারখানায় অভিযান, ৫৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৬২ পরিচয় ও অপরাধের বিবরণ তদন্তে জানা গেছে, মুহাম্মদ হাসান ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ৩০ দিনের সামাজিক ভ্রমণ পাস নিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে অবৈধভাবে অবস্থান করায় অভিবাসন আইনের আওতায় আসেন। অবশেষে ধরা পড়ল যেভাবে দীর্ঘ ৯ দিন ধরে চলে এই নিবিড় অনুসন্ধান। গত ১৮ এপ্রিল অভিযানের মূল মোড় ঘুরে যায়। এদিন সকাল থেকেই গোয়েন্দা দল মাঠপর্যায়ে থাকা নিজেদের তথ্যদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দ্বিতীয় স্তরের একজন তথ্যদাতার মাধ্যমে ওই বন্দির গোপন আস্তানার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন গোয়েন্দারা। পরিচালক আনাস জানান, তথ্যদাতাদের পূর্ণ বিশ্বাস অর্জন করাই ছিল এই অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিকেল ৩টার দিকে তার আস্তানা নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপরই গোয়েন্দা দল বন সংলগ্ন এলাকাটি ঘিরে ফেলে। কৌশলী পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে বাইরে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেয়া হয় এবং আসা মাত্রই তাকে ঘিরে ফেলে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় পালানোর শেষ চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন তিনি।  গত ১৮ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে গোম্বাক লামা রোডের ১৪ মাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই সফল অভিযানের জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা, পাকিস্তান হাইকমিশন এবং যারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পরিচালক মোহাম্মদ আনাস মোহাম্মদ জারিব।

Go to News Site