Collector
যশোরবাসীর বঞ্চনা ঘোচাতে রেলমন্ত্রীকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর চিঠি | Collector
যশোরবাসীর বঞ্চনা ঘোচাতে রেলমন্ত্রীকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর চিঠি
Somoy TV

যশোরবাসীর বঞ্চনা ঘোচাতে রেলমন্ত্রীকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর চিঠি

ঢাকা-যশোর পদ্মা রেললিংক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও কাঙ্ক্ষিত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যশোরবাসী। শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের স্টেশনে গিয়ে ঢাকা রুটের ট্রেন ধরার ভোগান্তি ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে এবার রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।গত ১৫ এপ্রিল রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে দেয়া ওই ডিও (আধা সরকারি) চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী অমিত যশোরের প্রশাসনিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যশোর বিমানবন্দর, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন এবং দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলসহ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র নওয়াপাড়া ও ফুলের রাজধানী গদখালী এই জেলায় অবস্থিত। ২০১৬ সালে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প গৃহীত হলেও বিগত সরকারের আমলে যশোর সদরকে রহস্যজনকভাবে এই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছিল। শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে পদ্মবিলায় গিয়ে ট্রেন ধরার পরিকল্পনায় যশোরবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। যদিও বর্তমানে বেনাপোল রুটে একটি ট্রেন দেয়া হয়েছে, কিন্তু তা কাঙ্ক্ষিত সময়ে চলাচল না করায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। তাই শুরু থেকেই সিঙ্গিয়া জংশনের পরিবর্তে যশোর জংশন থেকে ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচলের দাবি তাদের দীর্ঘদিনের। আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার বাড়িতে পেট্রোল: পেপার কাটিং দেখিয়ে প্রতিমন্ত্রী বললেন ‘নাউজুবিল্লাহ’ যশোরবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী অমিত রেলমন্ত্রীর কাছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছেন। সেগুলো হলো: ১. ভোরবেলা বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে এবং দর্শনা থেকে একই রুটে আরও একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা; যাতে মানুষ দিনে গিয়ে দিনেই ঢাকা থেকে কাজ সেরে ফিরতে পারে। ২. সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ঢাকা-নড়াইল-যশোর রুটে অন্তত একজোড়া লোকাল ট্রেন সংযুক্ত করা। ৩. রেলের গতি ও সক্ষমতা বাড়াতে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা। ৪. ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে যশোর জেলার সুবিধাজনক কোনো স্টেশনে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিডি) স্থাপন করা। প্রতিমন্ত্রী তার চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই রুটগুলো সচল করলে বেনাপোল, নওয়াপাড়া, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও দর্শনার বিপুলসংখ্যক যাত্রী পাওয়া সম্ভব হবে; যা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচিয়ে রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রতিমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি ভোরবেলা ঢাকা যাওয়ার ট্রেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে এই যশোরকে ঘিরে রেলের বড় পরিকল্পনা থাকলেও অতীতে বরাবরই এ ধরনের অনেক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে এই জেলাকে। এখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের রেলমন্ত্রীর কাছে বৃহত্তর যশোরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে যশোরের সন্তান হিসেবে আমি যৌক্তিক দাবিটি বাস্তবায়নে অনুরোধ জানিয়েছি।’ প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা রেল সেতু উদ্বোধন করে তৎকালীন সরকার। ট্রেন চালু হওয়াতে যশোর থেকে ঢাকার দূরত্ব কমেছে ১৯৩ কিলোমিটার। এই রেললিংক প্রকল্পে যশোর থেকে ৩ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব।

Go to News Site