Collector
মেডিকেল সহকারী নজরুলের পেট কাটা মরদেহ ভাসছিল বালেশ্বর নদে | Collector
মেডিকেল সহকারী নজরুলের পেট কাটা মরদেহ ভাসছিল বালেশ্বর নদে
Jagonews24

মেডিকেল সহকারী নজরুলের পেট কাটা মরদেহ ভাসছিল বালেশ্বর নদে

তৎকালীন বিডিআর হাসপাতালের মেডিকেল সহকারী নজরুল ইসলামের দুই হাত বাঁধা ও পেট কাটা মরদেহ বালেশ্বর নদে ভাসছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন তার চাচা হাবিবুর রহমান মল্লিক। তিনি গুম-খুনের অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বুধবার (২২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। এ মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। এদিন তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। হাবিবুর ঝালকাঠির নলছিটির বাসিন্দা। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তার বড় ভাইয়ের ছেলে নজরুল বিডিআর হাসপাতালে মেডিকেল সহকারী হিসেবে চাকরি করতেন। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ হলে বিকেলের দিকে নজরুল তাদের ফোন দিয়ে জানান, তিনি আর হাসপাতালে থাকবেন না। সেখান থেকে বের হয়ে যাবেন। সে অনুযায়ী বের হয়ে কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। পরে নজরুলের বাবা ফোনে বিডিআরে যোগদানের বিষয়ে বললে তিনি বলেন, ‘আমি বিডিআরে যোগদান করবো না। কারণ, সাক্ষীদের মেরে ফেলছে মর্মে শুনেছি।’ ২০১০ সালের জানুয়ারিতে নজরুল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মধুমতি ক্লিনিকে চাকরি নেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন হাবিবুর। তিনি বলেন, এর কিছুদিন পর নজরুল পরিবারকে সেখানে নিয়ে যান। সেখানে মেডিকেল কোয়ার্টারে একটি ছোট রুম ভাড়া নেন। ওই বছরের ১৫ মার্চ ক্লিনিকের উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর রাতে আর ফেরেননি তিনি। তার কোনো হদিস না পেয়ে পরদিন ক্লিনিকে গিয়ে তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার জানতে পারেন, ডিউটি শেষে সহকর্মী রুহুল আমিনের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাসার পথে রওনা দিলে বামতা থেকে ছয়-সাতজন সাদা পোশাকধারী লোক একটি মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যান। এসময় বাধা দিলে রহুলকে মারধর করেন। তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ১৭ মার্চ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ মামলা করা হয় সংশ্লিষ্ট থানায়। হাবিবুর বলেন, ঝালকাঠি থেকে ডিএসবির (জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা) লোক তাদের বাড়িতে গিয়ে জানান, নজরুলের লাশ বলেশ্বর নদে পাওয়া গেছে। সম্ভবত ২০ বা ২২ মার্চ জানান, নদে পেট কাটা লাশ ভেসে উঠেছে। এছাড়া, পত্রিকায় ‘পেট কাটা হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত একটি লাশ বলেশ্বর নদে’ সংবাদ প্রকাশ পায়। তখন নজরুলের ভাই জাহিদুল ইসলাম এটি নজরুলের লাশ বলে শনাক্ত করেন।   জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। জেরার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, ‘আমার কোনো ছেলে নেই, একটি মাত্র মেয়ে। ভাতিজা ছিল নিজের ছেলের মতো। আমার গেছে, কষ্ট আমরা বুঝি।’ এফএইচ/একিউএফ

Go to News Site