Somoy TV
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, আর অপরাধের রাজধানী এখন যেন মোহাম্মদপুর। চুরি, ছিনতাই, খুন ও মাদকের থাবা এখানকার বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে মোহাম্মদপুর থানায় এসব অপরাধে মোট ৩২৩টি মামলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বসিলায় প্রথমবারের মতো একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এ ক্যাম্প থেকে ২৪ ঘণ্টা টহল, ব্লক রেইড ও চেকপোস্ট পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ দমনের আশা করছে পুলিশ।গত ১৫ এপ্রিল রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার ইটখোলা এলাকায় আসাদুল নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মাদক ব্যবসার বিরোধের জেরে তারই বন্ধুরা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসাদুলকে গলা ধরে টেনে নিয়ে যায়। পরে বাসায় যাওয়ার পথে মার্ডার হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে পুরো এলাকা অস্থির। সব জায়গায় কিশোর গ্যাং ছড়ানো। রাতে বাইরে বের হওয়া নিরাপদ না। আরও পড়ুন: কিশোর গ্যাং- পর্ব: ১ / খেলনা পিস্তল যেভাবে হয়ে ওঠে আসল পিস্তল এর তিন দিন আগেই ইটখোলা থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে বুদ্ধিজীবী রোডের বেড়িবাঁধ ঢালে দুই কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেখানে এলএক্স ইমন গ্রুপের এক দলনেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তার গোড়ালি কেটে ফেলা হয় বলে জানা যায়। শুধু খুন নয়, শেরশাহ শুরি রোড, নূরজাহান রোড, নবীনগর হাউজিংসহ মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় পুরো এপ্রিল মাস জুড়ে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের তৎপরতাও বাড়ে। গত ১৯ এপ্রিল রাতে এপিবিএনকে নিয়ে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। তবে একদিকে বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চললেও অন্যদিকে চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া চলে। অভিযোগ আছে, পাটালি গ্রুপের ১৫-২০ জন সদস্য চাপাতি নিয়ে দোকানপাটে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হঠাৎ করে এসে চাপাতি দিয়ে দোকান ভেঙে ফেলে। ক্যাশ টাকা, মোবাইল, সব লুট করে নিয়ে গেছে। আরেক ভুক্তভোগী বলেন, হঠাৎ করে ঢুকে পড়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্যাশ নিয়ে চলে যায়। বাইরে যা ছিল সব নিয়ে গেছে, ভেতরে ঢুকতে পারেনি। এ ঘটনায় এখনো থমথমে চাঁদ উদ্যান এলাকা। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে পুলিশের অভিযান চলার স্থান থেকে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার দূরত্ব মাত্র ৬০০ মিটার। এই স্বল্প দূরত্বেই একদিকে অপরাধীদের হামলা, অন্যদিকে পুলিশের অভিযান চলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোর গ্যাং এতটাই বেপরোয়া যে তারা পুলিশের অভিযানকেও তোয়াক্কা করে না। কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্ক থেকে মুক্তি প্রয়োজন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মোহাম্মদপুর থানায় চুরি, ছিনতাই, খুন ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ৩২৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২ হাজারের বেশি আসামি গ্রেফতার করা হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ফলে দিন-রাত ঘর থেকে বের হওয়াও এখন অনেকের জন্য আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসী বলেন, বাইরে বের হলেই মোবাইল, টাকা সব ছিনিয়ে নেয় কিশোর গ্যাং সদস্যরা। পুলিশ ধরে, সেনাবাহিনী ধরে, কিন্তু আবার কিছুদিন পর বেরিয়ে আসে। আরও পড়ুন: রাজধানীতে সক্রিয় ১১৮ কিশোর গ্যাং, বাড়ছে হত্যাকাণ্ড-ছিনতাই এ অবস্থায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বসিলায় প্রথমবারের মতো অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এখানে পুলিশের ৪০ জন সদস্য এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ৬৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সেকেন্ড ইন কমান্ড মো. ফজলুল করিম বলেন, এখানে আলাদা জনবল ও গাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও ব্লক রেইড চলবে। আমরা আশা করছি, এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। ঢাকার অন্যতম অপরাধপ্রবণ এই এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প কতটা স্বস্তি ফেরাতে পারবে, তা নিয়ে এখন অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
Go to News Site