Somoy TV
রাষ্ট্রের দুই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বর্তমানে কার্যত থমকে আছে। কমিশন সদস্যদের পদত্যাগের কারণে দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে দুদক। অন্যদিকে প্রায় ১৫ দিন ধরে অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে মানবাধিকার কমিশন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, দ্রুত কমিশন নিয়োগ না দিলে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।হামের টিকা কেনায় অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়ম নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা চলছে এবং তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে, তখন সেই তদন্তের দায়িত্বে থাকা দুদকই এখন অকার্যকর অবস্থায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দে অনিয়মের তথ্য জমা পড়লেও শীর্ষ পদ শূন্য থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সংস্থাটি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৩ মার্চ আব্দুল মোমেনের নেতৃত্বে দুদকের তিন সদস্যের কমিশন পদত্যাগ করে। এতে করে শেখ হাসিনা পরিবারসহ অন্তত তিন হাজার ভিআইপির বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রম থমকে যায়। দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি দমনের কোনো সংস্থাই এখন কার্যকর নেই। দুর্নীতি দমন হবে কীভাবে? সরকারের দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত আন্তরিকতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়। দুর্নীতি যারা করছেন, তাদের জন্য এটা মহাসুযোগ হয়ে যাচ্ছে। আরও পড়ুন: থিতু হতে পারছে না দুদক, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা অন্যদিকে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিলের পর পদত্যাগ করেন মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা। ফলে ১৫ দিন ধরে শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকায় নতুন অভিযোগের তদন্ত ও শুনানিও বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিতে কমিশনকে সচল করা জরুরি। অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর বলেন, ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাব অনুযায়ী এটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই যেন ২০০৯ সালের দুর্বল কাঠামোয় ফিরে না যায়। টিআইবি মনে করে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার রক্ষাকবচ এই দুটি প্রতিষ্ঠান অচল থাকলে রাষ্ট্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যখন মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর থাকে, তখন নাগরিক অধিকারের সম্ভাবনা পদদলিত হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই বাস্তবতা। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো ইতিবাচক শিক্ষা জুলাই আন্দোলন থেকে গ্রহণ করা হয়েছে; এটা আমি শুরু থেকেই দেখি নি। রাষ্ট্রের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে দ্রুত নতুন অধ্যাদেশ কিংবা পুরোনো আইনের আওতায় যোগ্য ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে সচল করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
Go to News Site