Somoy TV
প্রথমে জ্বালানি সংকট, পরে দাম বৃদ্ধি; এই দুইয়ের প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন থেকে শুরু করে রফতানি আয় আরও কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালিকরা। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে সরকারও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বসে সরকারের করণীয় ঠিক করার তাগিদ দিচ্ছে বিকেএমইএ। একই সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিম্ন আয়ের মানুষকে চাপমুক্ত রাখতে সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত এসেছে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা বলছেন, উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে না পারলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে কর্মসংস্থান। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি বায়ারদেরও জানা আছে। ফলে তারা অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছে। ১০ ঘণ্টার কর্মঘণ্টার মধ্যে যদি ২ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকে, তাহলে প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘায়িত হলে সংকট আরও প্রকট হবে। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন ঠিকই দিতে হচ্ছে, আবার উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট / স্থগিত হচ্ছে ক্রয়াদেশ, অর্ডার চলে যাচ্ছে বিদেশে: বিসিআই সভাপতি চাপ সামলাতে সরকারকে উৎপাদনমুখী খাতের বেসরকারি শিল্পখাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বসে কৌশল ঠিক করার তাগিদ দিচ্ছেন শিল্প মালিকরা। মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিকল্প সোর্স থেকে জ্বালানি আনার ব্যবস্থা রাখতে হবে। রিপেমেন্ট শিডিউল ও ক্লাসিফিকেশনের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা দরকার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত জরুরি। সব খাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব বিবেচনায় সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করতে সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। ট্রেস কনসাল্টিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফুয়াদ এম. খালিদ হোসেন বলেন, এখনই বিলাসী আমদানিপণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা দরকার। কর জাল বাড়াতে হবে, রফতানি আয়ের অর্থ দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের সামাজিক সেফটিনেটের আওতায় আনা ও তা শক্তিশালী করা জরুরি। তা না হলে বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ দ্রুত সামাজিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামীতে জ্বালানি তেলের দাম আরও না বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি উৎপাদনমুখী খাতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
Go to News Site