Somoy TV
আকাশ মেঘলা, তাই আজই কৃমির ওষুধ খাওয়ার ভালো দিন। এমন ভ্রান্ত ধারণা এখনও মনে পুষে রেখেছেন অনেকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। বৃষ্টির দিনেই যে কৃমির ওষুধ খেতে হবে এমনটি নয়।অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতা থেকেই কৃমি সংক্রমণ হয়। নানা কারণে আপনার শরীরে কৃমির সংক্রমণ হতে পারে। সেগুলো হলো- ১. হাত অপরিষ্কার থাকলে। সেই হাতেই খাবার খেলে।২. টয়লেট ব্যবহার করে হাত সাবান দিয়ে না ধুলে।৩. কাঁচা ফলমূল কিংবা শাকসবজি ধুয়ে না খেলে।৪. খালি পায়ে টয়লেট ব্যবহার করে পা না ধুলেও কৃমি হতে পারে। এক্ষেত্রে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।৫. কৃমি থাকে আমাদের অন্ত্রে। সেখানেই বাসা বাঁধে এবং ছড়িয়ে যায়। সাধারণত খাবার ও পানি থেকেই কৃমি ছড়িয়ে পড়ে।৬. এরা আণুবিক্ষণিক হওয়ায় সাধারণত চোখে দেখা যায় না। তাই নোংরা হাতে খেলে মুখ হয়ে অন্ত্রে চলে যেতে পারে এই পরজীবী। এমনকী দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস থেকেও এই সমস্যা হতে পারে। তাই সচেতন থাকাটা সবার আগে জরুরি। আরও পড়ুন: শরীরে আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ ও করণীয় কী?কীভাবে বুঝবেন কৃমি হয়েছে?কৃমিতে আক্রান্ত হলে সাধারণত শিশুদের পেট ফুলে যায়। অপুষ্টিতেও ভুগতে থাকে ওরা। সেই সাথে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পুষ্টির অভাব, রক্তশূন্যতা, আমাশয়, পেট ফাঁপা, পেট কামড়ানো এবং পায়ুপথে চুলকানি সহ বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। এসব লক্ষন দেখা দিলে দ্রুত ওষুধ খেতে হবে। কৃমি দূর করার উপায়প্রতি তিন মাস পর পর পরিবারের সকলে মিলে কৃমির ওষুধ খাওয়া ভাল। ওষুধের ধরণ অনুযায়ী কোন ডোজে খেতে হবে তা চিকিৎসকের কাছে জেনে নিতে হবে। শিশুদের জন্য সিরাপ রয়েছে। শিশুর বয়স যদি দুই বছরের বেশি হয় তবে কৃমির ঔষধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আরও পড়ুন: গরমে মধু খেলে কী ঘটে শরীর কৃমি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা- কৃমির ওষুধ খাওয়া নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা আমাদের চারপাশে ঘুরতে থাকে। সেগুলো আসলে কুসংস্কার মাত্র। যেমন-১. খেলে পেটে কৃমির ওষুধ খেলে পেটের ভেতরে ফুটো হয়ে যায় এমন ধারণা কুসংস্কার মাত্র। তবে অনেকের এটি খাওয়ার পর একটু বমি বমি ভাব হতে পারে।২. খাওয়ার আগে চিনি খেতে হয় বা মিষ্টি খেতে হয় এমন ধারণার কোন ভিত্তি নেই।৩. গরম আবহাওয়ায় সেবন করতে নেই এটাও এক ধরনের কুসংস্কার। যেকোনো আবহাওয়াতেই শরীর সুস্থ থাকলে এটি সেবনযোগ্য।মনে রাখা ভাল, কৃমি শরীরে মহা ঝামেলা তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত অপুষ্টির শিকার হতে পারেন। হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে কৃমি আরও জটিল সমস্যার কারণ হয়। ছোটদের গ্রোথ ফেলিওর হয়। অর্থাৎ তাদের বৃদ্ধি থমকে যায়। উচ্চতা বাড়ে না, রুগ্ন দেখায় ইত্যাদি। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে মাথায় চলে যেতে পারে কৃমি। তখন খিঁচুনি হতে পারে। এই পরিস্থিতি কিন্তু বিরাট বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই প্রথমেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
Go to News Site