Somoy TV
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বসানো মাইনগুলো অপসারণ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। গত মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) মাকিন কংগ্রেসে হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই এমনটা জানান প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। খবর এপির।প্রতিবেদন মতে, বৈঠকে আইনপ্রণেতারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয়, রণকৌশল এবং লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এছাড়া যুদ্ধের শুরুর দিকে একটি স্কুল প্রাঙ্গণে হামলার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। তবে এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরের সঙ্গে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই জলপথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানির এক ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। আরও পড়ুন: হরমুজে জাহাজ জব্দের তীব্র প্রতিক্রিয়া পানামার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এই প্রণালী বন্ধ কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। এর ফলে জাহাজ চলাচল অনেকাংশে কমে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্র মাইন পেতেছে। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী ও ইরানের সামরিক বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানায়, হরমুজ থেকে মাইন অপসারনে কাজ শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে সমুদ্রের তলদেশে পাতা মাইন অপসারণে মানববিহীন রোবট ও ড্রোন মোতায়েন করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। আরও পড়ুন: কূটনৈতিক অচলাবস্থার জন্য ট্রাম্পের নৌ অবরোধ দায়ী: ইরান প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রের তলদেশে থাকা মাইন শনাক্ত করতে মানবচালিত ও মানববিহীন উভয় ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে মানববিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (ইউইউভি) দিয়ে প্রাথমিকভাবে স্ক্যান চালানো হচ্ছে। পরে শনাক্ত হওয়া মাইনগুলো উন্নত রোবোটিক সিস্টেমের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করা হচ্ছে।
Go to News Site