Jagonews24
মন খারাপ, কাজের চাপ বা একঘেয়েমি - এমন সময় অনেকেই হঠাৎ কিছু কিনে ফেলেন। নতুন জামা, ছোট কোনো গ্যাজেট বা শখের কিছু। কেনার পর মুহূর্তেই যেন মনটা একটু হালকা লাগে। কিন্তু কেন? এই অনুভূতিকে অনেকেই রিটেইল থেরাপি বলে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো - শপিং করলে সত্যিই কেন মন ভালো লাগে? মস্তিষ্কের ভেতরে কী ঘটে? কিছু কেনার সময় আমাদের মস্তিষ্কে রিওয়ার্ড সিস্টেম সক্রিয় হয়। তখন ডোপামিন নামের একটি রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা আনন্দ ও তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে। বিশেষ করে নতুন কিছু কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া, সেটি পাওয়ার প্রত্যাশা - এই পুরো প্রক্রিয়াটিই মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে। ফলে সাময়িকভাবে মন ভালো লাগে। কেন এটি এত আকর্ষণীয়? ১. নিয়ন্ত্রণের অনুভূতিজীবনের অনেক বিষয়ই আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কিন্তু কী কিনবেন, কখন কিনবেন - এই সিদ্ধান্ত নেওয়া এক ধরনের নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি দেয়। ২. আবেগ থেকে সাময়িক মুক্তিমন খারাপ বা স্ট্রেস থাকলে শপিং একটি ডিস্ট্রাকশন হিসেবে কাজ করে। কিছু সময়ের জন্য হলেও দুশ্চিন্তা থেকে মন সরে যায়। ৩. নিজের জন্য কিছু করানিজেকে কিছু উপহার দেওয়া - এটি আত্মতৃপ্তি ও যত্ন নেওয়ার অনুভূতি তৈরি করে। ৪. নতুনত্বের আকর্ষণনতুন জিনিসের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণ আছে। নতুন কিছু পাওয়ার আনন্দ মস্তিষ্ককে চাঙ্গা করে। তবে সমস্যা কোথায়? এই ভালো লাগাটা বেশিরভাগ সময়ই সাময়িক। কিছুক্ষণ বা কিছুদিন পর সেই অনুভূতি কমে যায়, আবার আগের মতোই মন খারাপ বা চাপ ফিরে আসে। অনেক ক্ষেত্রে এই অভ্যাস বাড়তে থাকলে তা কমপালসিভ বাইং বা অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতায় রূপ নিতে পারে, যা অর্থনৈতিক ও মানসিক - দুটো ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি করতে পারে। কীভাবে ব্যালান্স রাখবেন? >> শপিংয়ের আগে ভাবুনএটি কি প্রয়োজন, নাকি শুধু মুহূর্তের আবেগ? >> বিকল্প খুঁজুনমন খারাপ হলে হাঁটতে বের হওয়া, বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা বা কোনো শখের কাজে সময় দেওয়া - এসবও একইভাবে মন ভালো করতে পারে। >> বাজেট ঠিক রাখুননিজের আর্থিক সীমা মাথায় রেখে কেনাকাটা করুন। শপিং করলে মন ভালো লাগা অস্বাভাবিক নয়, এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে এটিকে যদি মুড ঠিক করার একমাত্র উপায় বানিয়ে ফেলেন, তাহলে সেটি সমস্যার কারণ হতে পারে। নিজের আবেগের উৎস বুঝে, সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই এই আনন্দটুকু উপভোগ করা যাবে ঝুঁকি ছাড়া। সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, জার্নাল অব কনজিউমার সাইকোলজি, মায়ো ক্লিনিক এএমপি/এএসএম
Go to News Site