Jagonews24
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের সাত দিন পর তানভির ওরফে মুজাহিদ নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের একটি বিলের ডোবা থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি পুরানগাও এলাকার মেরাজ মিয়ার ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ভৈরবের গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের তাসলিমা বেগমের সঙ্গে একই ইউনিয়নের পুরানগাঁও এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে মেরাজ মিয়ার প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল। সাত মাস আগে তাদের ঘরে তানভির ওরফে মুজাহিদ নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে গত ২০ দিন আগে স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে তুচ্ছ পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হওয়ার পর তাসলিমা বেগম অভিমান করে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এর কয়েকদিন পর গত ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বাবা মেরাজ মিয়া শ্বশুরবাড়িতে এসে অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাসলিমার কাছ থেকে নিয়ে যান। কিন্তু সারাদিন পেরিয়ে গেলেও তিনি আর শিশুকে মায়ের কাছে ফেরত দিয়ে যাননি। পরদিন তাসলিমার বাবার বাড়ির লোকজন শিশুকে ফিরিয়ে আনতে মেরাজ মিয়ার বাড়িতে গেলেও সেখানে শিশু তানভিরকে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকলে গত ২১ এপ্রিল শিশুর মা তাসলিমা বেগম ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা বাইদের বনের একটি ডোবায় শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। শিশুটির মামা আব্দুল হাকিম মিয়া অভিযোগ করেন, তার বোন জামাই পরিকল্পিতভাবে ভাগনাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে মরদেহ ডোবায় ফেলে দিয়েছে। চিকিৎসার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে মেরাজের পরিবারের আচরণ সন্দেহজনক ছিল বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ভৈরব থানার তদন্ত কর্মকর্তা লিমন বোস জানান, মানিকদি গ্রামের একটি ডোবায় শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে নিহতের পরিবার এই ঘটনায় একটি জিডি দায়ের করেছিলেন। এই বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান। রাজীবুল হাসান/কেএইচকে/এএসএম
Go to News Site