Collector
হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরাতে ৬ মাস লাগতে পারে: পেন্টাগন | Collector
হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরাতে ৬ মাস লাগতে পারে: পেন্টাগন
Jagonews24

হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরাতে ৬ মাস লাগতে পারে: পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে এখনো অনেক অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে তা এখনো অনিশ্চিত। এরইমধ্যে পেন্টাগন বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেসব মাইন পুঁতে রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো অপসারণ করতে ছয় মাস পর্যন্তও সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তারা মনে করছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বিবিসি অ্যারাবিক জানিয়েছে, মঙ্গলবার হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ মন্তব্য করেন। ব্রিফিং সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ওই তিন কর্মকর্তার মধ্যে দুজন বলেন, সম্ভাব্য এই সময়সূচি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের সদস্যরাই হতাশা প্রকাশ করেছেন। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হলেও জ্বালানি ও তেলের দাম কিছু সময়ের জন্য উচ্চ অবস্থায় থাকতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই তিন কর্মকর্তা জানান, কমিটিকে জানানো হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরান মাইন পুঁতে রাখতে পারে। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কংগ্রেসকে বলেন, এসব মাইনের কিছু জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে স্থাপনের সময় মার্কিন বাহিনীর জন্য সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া আরও কিছু মাইন ছোট নৌযান ব্যবহার করে ইরানি বাহিনী পুঁতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধ শেষের কোনো ‌‘সময়সীমা’ নেই এবং ‘পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে’পাকিস্তানে শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চললেও যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইরানের কোনো প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেবে কি না—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার ভঙ্গ, অবরোধ ও হুমকিই মূলত প্রকৃত আলোচনার পথে প্রধান বাধা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা যার, সেই ভাইস–প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বুধবার পর্যন্ত বাড়ানোর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার কোনো ‘নির্দিষ্ট সময়সীমা’ নেই। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রধান আলোচক বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘প্রকাশ্য যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ কারণে এই প্রণালি পুনরায় খোলা ‘সম্ভব নয়’। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের সামনে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন, কারণ যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের নেতৃত্ব বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং সংঘাতের অবসানে একটি প্রস্তাব তৈরি করতে তাদের আরও সময় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেছেন, ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসা জাহাজগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ বহাল থাকবে—যার উদ্দেশ্য ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখা। এই পদক্ষেপে ইরান ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং তারা একে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে মনে করছে। লেভিট জোর দিয়ে বলেন, পরিকল্পনাটি কার্যকর হচ্ছে। এই অবরোধের মাধ্যমে আমরা তাদের অর্থনীতির শ্বাসরোধ করে দিচ্ছি। তারা প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার হারাচ্ছে। খারগ দ্বীপ পুরোপুরি ভরে গেছে, তারা তেল আনা–নেওয়া করতে পারছে না। এই অর্থনৈতিক চাপের কারণে তারা নিজেদের লোকজনকেও বেতন দিতে পারছে না—এই চাপটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের ওপর প্রয়োগ করেছেন। হোয়াইট হাউজ বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট এবং তারা এখনো জোর দিয়ে বলছে, নিয়ন্ত্রণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই। এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের বাহিনী ৩১টি জাহাজ আটকেছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ নাকি অবরোধ এড়িয়ে গেছে-সংবাদমাধ্যমের এমন প্রতিবেদনকে তারা ‘সঠিক নয়’ বলেও দাবি করেছে। সেন্টকম বলছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যপরিধি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ এর বাইরেও সক্রিয় থেকে মার্কিন বাহিনী এই অবরোধ কার্যকর করছে। টিটিএন

Go to News Site