Somoy TV
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই রেকর্ড ভোট পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু এই দুই রাজ্যে এবারই সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির গড়েছে। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি।পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯২.০৭ শতাংশ, যা চূড়ান্ত হিসাবে আরও বাড়তে পারে। এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে এত বেশি ভোট কি সরকারবিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ, নাকি শাসক তৃণমূলের পক্ষে দৃঢ় সমর্থনের ইঙ্গিত? পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ভোট পড়েছিল ৮২.৩০ শতাংশ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা ছিল ৭৯.৫৯ শতাংশ। সেই জায়গা থেকে এবারের প্রথম দফাতেই ৯১ শতাংশের বেশি ভোট পড়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এই হার নির্দিষ্ট আসনভিত্তিক, গোটা রাজ্যের গড় নয় তবু ভোটারদের আগ্রহ যে বেড়েছে, তা স্পষ্ট। একই দিনে তামিলনাড়ুতেও ভোট হয়েছে, যেখানে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ৮২.২৪ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্য রাজ্যেও ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। আরও পড়ুন: বিজেপি-তৃণমূলের অঙ্কে ‘ফ্যাক্টর’ই বড় চমক? এই উচ্চ ভোটের রাজনৈতিক বার্তা কী? একাংশের মতে, এটি সরকারবিরোধী ভোট হতে পারে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) ঘিরে রাজ্যে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বহু নাম বাদ পড়া, যাচাই-বাছাই এবং ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ এই প্রেক্ষাপটে ভোটাররা আরও সতর্ক হয়ে বুথমুখী হয়েছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে পাল্টা যুক্তিও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বেশি ভোট মানেই সবসময় শাসকবিরোধী হাওয়া এমন নয়। বরং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও শক্ত সংগঠন দুই-ই ভোটের হার বাড়ায়। তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে বুথস্তরে সংগঠন মজবুত রেখেছে। নারী ভোটার, প্রকল্পভিত্তিক সুবিধাভোগী, সংখ্যালঘু ও গ্রামীণ সমর্থন ধরে রাখতে পারলে বেশি ভোট তাদের পক্ষেও যেতে পারে। আরও পড়ন: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ এই যুক্তির পক্ষে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলও উল্লেখযোগ্য। ওই নির্বাচনে তৃণমূল পায় ৪৬.১৬ শতাংশ ভোট, যেখানে বিজেপি পায় ৩৯.০৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও শাসকদলের ভিত্তি অটুট ছিল। ফলে এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন এই রেকর্ড ভোট পুরোপুরি সরকারবিরোধী, না কি শাসকপন্থি ঢেউ। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি উচ্চ মাত্রার মেরুকরণের ইঙ্গিতও হতে পারে, যেখানে দুই পক্ষই নিজেদের সমর্থকদের বুথে আনতে সক্ষম হয়েছে। চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ফল প্রকাশের দিন ৪ মে। ততদিন পর্যন্ত এই রেকর্ড ভোট নিয়েই চলবে রাজনৈতিক ব্যাখ্যার লড়াই।
Go to News Site