Somoy TV
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সরাসরি মতবিনিময়ের লক্ষে প্রকল্প সাইটের কাছে চরসাহাপুরে ‘উঠান বৈঠক’ আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন।বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেনের উপস্থিতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব, প্রযুক্তিগত দিক এবং আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়।প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা একটি বড় জাতীয় প্রকল্পের সফলতার মূল চাবিকাঠি।’তিনি গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সঠিক তথ্যের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, তথ্যকেন্দ্র এবং অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘Nuclear Power in Bangladesh’ অনুসরণের পরামর্শ দেন।তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের সূচনালগ্ন থেকেই এলাকাবাসী সর্বাঙ্গীন সহযোগিতা করে আসছেন। এজন্য তিনি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।উক্ত উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সিআরএনপিপি, এনপিসিবিএলের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ আরাফাত।আরও পড়ুন: রূপপুরে ‘জ্বালানি লোডিং’ কার্যক্রম শুরু কবে?বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মো. শাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদার বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ভুল ধারণা দূর হচ্ছে এবং প্রকল্পের নিরাপত্তা সম্পর্কে আস্থা তৈরি হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।স্থানীয় বাসিন্দা মো. গোলজার হোসেন বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে এ অঞ্চলের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আজকের আয়োজন থেকে তিনি অনেক ভুল ধারণার সঠিক উত্তর পেয়েছেন বলেও জানান এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্রের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আশিক হায়দারের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আছমা বেগম, কমিশনিং অ্যান্ড এক্সটার্নাল ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের প্রধান সাগর আলম, গণমাধ্যম ফোকাল পয়েন্ট সৈকত আহমেদ, জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইকবাল হাসানী এবং পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্রের কমিউনিকেশন ম্যানেজার আহসান হাবিব।উল্লেখ্য, ফুয়েল লোডিংয়ের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স অর্জনের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ম ইউনিট শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে। ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর রিঅ্যাক্টরের পাওয়ার প্রায় ৩০–৩৫ শতাংশ ক্ষমতায় পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে প্রথম বিদ্যুৎ সংযোগ করা সম্ভব হবে। এরপর ফুয়েল লোডিং শুরুর প্রায় ১০ মাস পর জাতীয় গ্রিডে ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ যোগ করবে। একইভাবে আরও এক বছর পরে ২য় ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
Go to News Site