Somoy TV
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রায় ৭৮ লাখ টাকার একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কার্পেটিং হাতের স্পর্শেই উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সরেজমিনে দেখা যায়, বাহেরচর বাজার থেকে নেতা বাজার হয়ে নাদু প্যাদা বাড়ি পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫১ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস জিয়াউল অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৮২ টাকা।তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মৃধা বলেন, ‘হাঁটু গেড়ে বসে আঙুল দিয়ে টান দিতেই পিচ উঠে আসে। বড় যান চলাচল করলে দুই দিনও টিকবে না।’প্রকল্প নথি অনুযায়ী, সড়কে নির্ধারিত পুরুত্বে কার্পেটিং ও সিল কোট দেয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। যেখানে ২৫ মিলিমিটার পুরু কার্পেটিং থাকার কথা, সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ২০ থেকে ২২ মিলিমিটার। আর ১৫ মিলিমিটার সিল কোটের স্থানে রয়েছে ১০ থেকে ১২ মিলিমিটার।এছাড়া, পর্যাপ্ত ট্যাক কোট ও বিটুমিন ব্যবহার না করায় সড়কের উপরিভাগ শক্তভাবে বসেনি বলে অভিযোগ। পাথরের খোয়ার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ফলে নতুন রাস্তার পিচ সহজেই উঠে যাচ্ছে এবং সারফেস এবড়োথেবড়ো হয়ে পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই রাস্তা ধুয়ে যাবে, গাড়ির চাকায়ও উঠে যাচ্ছে।’খলিল মিয়া বলেন, ‘নামমাত্র কাজ করেছে, পা দিয়ে খোঁচা দিলেই উঠে আসে।’আরও পড়ুন: আঙুলের চাপেই উঠছে অর্ধকোটি টাকার রাস্তার পিচ কার্পেটিংশুধু কাজের মান নয়, নির্মাণ পদ্ধতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় আনছার ডাক্তার জানান, কাজ বন্ধ রাখতে বললে ঠিকাদারের লোকজন উল্টো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এমনকি রাতের আঁধারেও কাজ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।প্রকল্প অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে এজিং ও সাইড ড্রেসিং করার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। এতে বর্ষা মৌসুমে রাস্তার ভিত্তি ধুয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফ হোসেনকে অফিসে পাওয়া যায়নি। অফিস সহায়ক জানান, তারা কয়েকদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেয়ারটেকার আইয়ুব গাজী বলেন, ‘পুরোনো রাস্তার সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে কোথাও কমবেশি হতে পারে। রোলারের চাপের কারণেও এমন হয়েছে।’এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Go to News Site