Collector
গণপিটুনিতে নিহত ২: গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য পুরো গ্রাম | Collector
গণপিটুনিতে নিহত ২: গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য পুরো গ্রাম
Somoy TV

গণপিটুনিতে নিহত ২: গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য পুরো গ্রাম

স্বর্ণালংকারের লোভে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু আতিকাকে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে অভিযুক্তের বাবা ও চাচা নিহত হন। ওই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেফতারের ভয়ে মানিকগঞ্জ সদরের কান্দারপাড়া গ্রাম এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে চরম আতঙ্ক ও ভয়ভীতির মধ্যে দিন পার করছেন গ্রামটিতে অবস্থানরত নারীরা।মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বনপারিলের কান্দারপাড়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত। ওইদিন বিকেল ৪টার পর থেকে নিখোঁজ হয় সৌদিপ্রবাসী দুদল মিয়ার সাত বছর বয়সি মেয়ে আতিকা আক্তার। পরে পরিবারের লোকজন প্রতিবেশী কিশোর নাঈমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় সে জানায়, আতিকার হাত ও পা বেঁধে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে রেখে তার কানে থাকা সোনার গয়না নিয়ে সে বাজারে বিক্রি করেছে। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ওইদিন রাত ৯টার দিকে ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশু আতিকার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কিশোর নাঈমের বাবা পান্নু মিয়া ও চাচা ফজলুর রহমানকে ডেকে এনে পিটিয়ে হত্যা করেন। গণপিটুনির পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ডোবার পানিতে ফেলে দেয়া হয়। পিটুনিতে গুরুতর আহত হন কিশোরের বড় ভাই নাজমুল হোসেন। এই জোড়া খুনের ঘটনার পর উভয় পক্ষই সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন নিহত শিশুটির মা আরিফা আক্তার। অন্যদিকে নিহত পান্নুর স্ত্রী নার্গিস রোববার (১৯ এপ্রিল) ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে অপর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রি, ২ তেল ব্যবসায়ীকে জরিমানা এই অজ্ঞাতনামা মামলার কারণেই মূলত গ্রামে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত আতিকার পাশের বাড়ির এক নারী বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা মামলা হওয়ায় গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে বাড়িতে কেউ থাকতে পারছে না। আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। শুধু আমাদের বাড়িতেই নয়, পুরো গ্রামের একই অবস্থা।’ ওই গ্রামের সবুরা নামের আরেক নারী বলেন, ‘সময় যত গড়াচ্ছে, গ্রামে ভয়ভীতি আর আতঙ্ক তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ অন্যদিকে আতিকার মা আরিফা আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি অভিযুক্ত নাঈমসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসাথে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও উল্লেখ করেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, হত্যার দুইদিন পর শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থেকে পুলিশ নাঈমকে আটক করে। তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী স্বর্ণের গহনা উদ্ধার করা হয়। তবে নাঈমকে গ্রেফতার করা এত সহজ ছিল না। তার কাছে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না। তাই সনাতন পদ্ধতি অবলম্বন করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘একটি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরই গ্রামবাসী জড়িয়ে পড়েন অন্য অপরাধে। গণপিটুনি দিয়ে পান্নু, ফজলু ও নাজমুলকে ডোবার পানিতে ফেলে দেয়া হয়।’ কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলাগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।’

Go to News Site