Collector
২০ বছর ধরে পরেন ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি পতাকার টুপি, কেটে দিলো পুলিশ | Collector
২০ বছর ধরে পরেন ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি পতাকার টুপি, কেটে দিলো পুলিশ
Somoy TV

২০ বছর ধরে পরেন ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি পতাকার টুপি, কেটে দিলো পুলিশ

ইসরাইলের মোদিইন শহরে এক ব্যক্তির মাথায় ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী টুপি কিপ্পা থেকে ফিলিস্তিনি পতাকা কেটে নিয়েছে দেশটির পুলিশ। টুপিতে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি দুই পতাকাই ছিলো। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঘটা এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, ইসরাইলি বিচার মন্ত্রণালয়ের পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (পিআইডি) ইতোমধ্যে পুলিশের এই অসদাচরণের অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে। ভুক্তভোগী ৫৩ বছর বয়সী ড. অ্যালেক্স সিনক্লেয়ার এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনা সম্পর্কে জানান, তিনি একটি ক্যাফেতে বসে ছিলেন। হঠাৎ এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি তার দিকে তেড়ে এসে চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, তার পরা কিপ্পাটি বেআইনি। কারণ, সেই কিপ্পায় ইসরাইলি পতাকার পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিনি পতাকাও যুক্ত ছিল। সিনক্লেয়ার বলেন, ‘প্রায় বিশ বছর ধরে আমি এমন একটি কিপ্পা পরছি যেখানে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন উভয় দেশের পতাকাই রয়েছে। এর পেছনে আমার ইহুদি-জায়নবাদী পরিচয়ের কিছু জটিল এবং মিশ্র অনুভূতি কাজ করে।’ তিনি বলেন, ‘যে লোকটি আমার ওপর চিৎকার করছিল, আমি হেসে তাকে বলেছিলাম, আপনি চাইলে আমার সাথে বসে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে আমার এই টুপি পরাটা কোনোভাবেই বেআইনি নয়।’ কিন্তু সেই ব্যক্তি নাছোড়বান্দা ছিলেন। কিছুক্ষণ পরই সেখানে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা হাজির হন। তারা লোকটির কথার সাথে সুর মিলিয়ে বলেন যে, সিনক্লেয়ারের কিপ্পাটি সত্যিই বেআইনি এবং তারা সেটি বাজেয়াপ্ত করতে যাচ্ছেন। সিনক্লেয়ার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এটি কোনোভাবেই আইনবিরোধী নয়, কিন্তু দায়িত্বরত কর্মকর্তা তাকে সরাসরি জানিয়ে দেন যে, তাকে আটক করা হচ্ছে। আরও পড়ুন: ‘শাট আপ’: এআই ভিডিওতে ট্রাম্পকে ইরানের চরম উপহাস! পুলিশ তার ল্যাপটপ, ফোন এবং পকেটে থাকা সবকিছু কেড়ে নেয় এবং কাউকে ফোন করারও সুযোগ দেয়নি। এরপর তাকে থানায় নিয়ে একটি সেলে আটকে রাখা হয়। সিনক্লেয়ার বলেন, ‘আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়নি ঠিকই, কিন্তু যখন আপনাকে একা একটি সেলে আটকে রাখা হয় এবং স্ত্রী বা আইনজীবীর সাথে কথা বলতে দেয়া হয় না, তখন নিছক আটক আর গ্রেফতারের মধ্যে তফাৎ করাটা একেবারেই অর্থহীন।’ প্রায় বিশ মিনিট পর তাকে সেল থেকে বের করা হলেও পুলিশ জানায় যে, তার কিপ্পাটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি যদি কিপ্পা ছাড়াই থানা থেকে চলে না যান, তবে তাকে আবারও সেলে ঢোকানোর হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু সিনক্লেয়ারও নিজের দাবিতে অটল ছিলেন। তার জোরাজুরির একপর্যায়ে পুলিশ তাকে কিপ্পাটি ফেরত দিতে বাধ্য হয়, তবে ততক্ষণে তারা কিপ্পা থেকে ফিলিস্তিনি পতাকাটি কেটে ফেলেছে। আক্ষেপ করে সিনক্লেয়ার লিখেছেন, ‘তারা আমার নিজের জিনিস, আমার ধর্মের একটি পবিত্র অনুষঙ্গ, যা আমার হৃদয়ের খুব কাছের সেটি কেড়ে নিয়ে ধ্বংস করেছে।’ এ ঘটনায় ইসরাইলি পুলিশ বাহিনীর কড়া সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় পার্লামেন্ট সদস্য রাব্বি গিলাদ কারিভ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্য কোনো দেশে যদি পুলিশের হাতে একজন ইহুদির কিপ্পা এভাবে কাটা পড়ত, তবে এখানে রীতিমতো তুলকালাম কাণ্ড বেধে যেত। ইসরাইলি পুলিশ বাহিনীতে যে পদ্ধতিগত চরম অবক্ষয় চলছে, এটি তারই প্রমাণ।’ মানবাধিকার সংগঠন ‘ট্যাগ মেইর’-ও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, মতামত প্রকাশের কারণে কাউকে আটক করা এবং ইহুদিদের কিপ্পা অবমাননা করার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সরকার এবং পুলিশ বাহিনী দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছে।

Go to News Site