Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। রাজধানীর ৪০ ভাগ খুনের নেপথ্যেই রাজনীতি - দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাজধানীতে একের পর এক ঘটছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির জেরে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চরম পথ বেছে নিচ্ছে রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য বলছে, গত ১৫ মাসে রাজধানীতে সংঘটিত ৪৭৯টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১৯৩টি বা প্রায় ৪০ শতাংশেরই নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক খুনের ঘটনা ঘটেছে ডিএমপির ওয়ারী, গুলশান ও উত্তরা বিভাগে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক এই অস্থিরতার পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ একটি বড় ভূমিকা পালন করে। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি বা এলাকার প্রভাব ধরে রাখার লড়াইয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তবে এই পুরো পরিস্থিতির পেছনে সবচেয়ে নেতিবাচক ভূমিকা রাখে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। অপরাধীরা যখন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যায়, তখন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নির্বাহী প্রকৌশলীর কেরামতি দুর্নীতি ধুয়ে ৭ দিনেই ‘পবিত্র’ - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হয়তো একটা বিশ্বরেকর্ড, নয়তো একটা জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দেশের আমলাতন্ত্রের আঁতুড়ঘর সচিবালয়ে। একজন সচিব এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে সাসপেন্ড করে দেন তাকে। দুই দিন বাদেই সেই প্রকৌশলী চিঠি হাঁকেন প্রতিমন্ত্রী বরাবর। সাত দিন বাদে আবার সেই সচিবই আরেক প্রজ্ঞাপন দিয়ে বলেন, দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি, বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার ও তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হলো। আমলাতন্ত্রের ফাঁদ, লালফিতার দৌরাত্ম্য-এই শব্দবন্ধগুলো এ দেশে বহুল ব্যবহৃত। সরকারি দপ্তরগুলোয় কাজের কচ্ছপগতি বোঝাতে এসব শব্দ চলে আসছে। দেশের আমলাতন্ত্রে কোনো কাজই যে ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ ছাড়া গতি পায় না, তা মোটামুটি বিশ্ববিদিত। এই অবস্থায় ওপরের ঘটনাটি ‘বিশেষ কেরামতি’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।মানব পাচারের নতুন রুট কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড - দৈনিক মানবজমিনের প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি নানা পদক্ষেপ, সচেতনা বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পরও থামছে না অবৈধ পথে মালয়েশিয়া গমন। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ধারদেনা করে দালালকে টাকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ পাড়ি দিচ্ছেন উত্তাল সাগর। কখনো আবার বৈধ পথে যাওয়ার প্রতারণায় আরেক দেশে নিয়ে আটকে রেখে করা হচ্ছে নির্যাতন। রয়েছে চিরদিনের মতো পরিবারের কাছে না ফেরারও অনেক গল্প। আবার স্বপ্ন বোনার আগেই ঋণের বোঝায় নীরবে শেষ হয়ে যাচ্ছে শত শত পরিবার। আর এই অবৈধ পথে মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন রুট, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা আগাম ভিসা ছাড়া বর্তমানে বিশ্বের ৩৬টি দেশ ভ্রমণ করতে পারবে। এর মধ্যে কম্বোডিয়াও আছে। মাত্র ৩০-৩৬ ডলার খরচ করেই অনলাইনে সহজেই অনএরাইভাল ই-ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসা নেয়া যায়। মাত্র ৩৬শ’ টাকার এই ট্যুরিস্ট ভিসায় কমপক্ষে ৩০ দিন পর্যন্ত থাকা যায় কম্বোডিয়ায়। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে কিছু অসাধু দালাল চক্র। যাদের সঙ্গে যুক্ত আছে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের আরেকটি চক্র। এমনই এক ভুক্তভোগী চাঁদপুরের সাইফুল সরকার। তিনি বলেন, এই চক্রের প্রথম ধাপের সদস্যদের টার্গেট থাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে প্রলোভন দিয়ে রাজি করা ও টাকা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো। এরপর ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে ই-ভিসা নিয়ে ফ্লাইটে করে কম্বোডিয়ায় পাঠানো। যেভাবে তৈরি হয় শিক্ষকদের জাল সনদ - দৈনিক মানবজমিনের প্রথম পাতায় প্রকাশিত আরেকটি খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একের পর এক জাল সনদধারী ধরা পড়ছে তদন্তে। তাদের পেছনে খরচ হয়েছে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা। যে টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। সবশেষ তথ্যানুযায়ী বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ১ হাজার ৬৪৯ জন শিক্ষকের তথ্য পেয়েছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ)। যাদের কাছে সরকারের পাওনা মোট ৮৩৪ কোটি টাকা। সবশেষ ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা দেয়া হয়। জাল সনদে চাকরি করা তিনজনের সঙ্গে কথা হয়। যাদের দু’জন ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন। চিহ্নিত দু’জনের একজন চাকরি করেন জামালপুরে। তিনি বলেন, আমি এই প্রতিষ্ঠানেই কর্মরত ছিলাম। এরপর এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ আসে। নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেয়া হয়নি। এনটিআরসিএতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। অফিসের বাইরে ঘোরাঘুরি করতো নানান ধরনের দালাল। আকাশ নামে একজনের সঙ্গে তিন ধাপে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি করি। তিনি এক শিক্ষক চাকরি পাওয়া সত্ত্বেও যোগ দেননি। প্রথম ধাপে এক লাখ টাকা নিয়ে ওই ব্যক্তির কাগজপত্র যেগুলো পরবর্তীতে যাচাই হয় না সেগুলো সংগ্রহ করে দেন। এরপর যাচাই হওয়া কাগজপত্রের জন্য (মূলত নিবন্ধন সনদ) এরজন্য তিন লাখ টাকা নেন। বিদ্যুৎ নিয়ে সুখবর নেই, লোডশেডিং বাড়বে - দৈনিক সমকালে প্রকাশিত প্রধান খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকে গরম বাড়ছে। বৈশাখের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরু থেকে বয়ে চলা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ ঢাকাসহ অন্তত ২০ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। শহরে অনেকটা স্বস্তি থাকলেও গ্রামে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। সরকারি তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির কথা বলা হলেও বিতরণ কোম্পানিগুলোর মতে, লোডশেডিং চার হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা এবং জ্বালানি আমদানি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে খাত-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে না। কারণ ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি দামও বেড়েছে। এছাড়া তাপমাত্রা বাড়ছে। রয়েছে অর্থ সংকট। ফলে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানির স্বল্পতায় বিদ্যুতের চাহিদা এবং উৎপাদনের মধ্যে ফারাক বৃদ্ধি পাবে। ফলে লোডশেডিংও বাড়বে। গ্রামের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও লোডশেডিং বাড়াতে হবে।পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, চাপে সাধারণ মানুষ - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান একটি বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর মাসিক বেতন ৫৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঘরভাড়া, দুই সন্তানের লেখাপড়া, ওষুধ ও যাতায়াতের জন্য খরচ হয় ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার টাকা। গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবাকে মাসে ১০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। বাকি ৯-১০ হাজার টাকা খরচ করেন দৈনন্দিন বাজারের জন্য। কয়েক মাস আগেও বেতনের এই টাকায় টেনেটুনে হাবিবুরের সংসার চলে যেত। কিন্তু চার-পাঁচ মাস ধরে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। কারণ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় খরচ সামলাতে গরুর মাংস ও ফল খাওয়া কমিয়েছে তার পরিবার। আগে ছুটির দিনে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরতে বের হতেন হাবিবুর। এখন সেটাও বন্ধ। তারপরও ব্যয় সামলাতে পারছেন না। এখন প্রতি মাসে তাকে ঋণ করতে হচ্ছে। ২৩০ কিলোমিটার পথে ৪৮১ ‘ফিডার রোড’, বাড়ছে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা - দৈনিক বণিকবার্তায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দূরত্ব ২৩০ কিলোমিটার। দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন-খ্যাত মহাসড়কটির এ অংশের দুই পাশে মিলেছে ৪৮১টি ফিডার রোড। এ তথ্য হাইওয়ে পুলিশের। মহাসড়কটিতে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের পর্যবেক্ষণ বলছে, সার্ভিস লেন না থাকায় ফিডার রোডের সংযোগে গণপরিবহন থেকে যাত্রী ওঠানামার সময় বিশৃঙ্খলা ও যানজট হচ্ছে। একইভাবে ফিডার রোড থেকে মূল মহাসড়কে ছোট যানবাহনের অবাধ প্রবেশের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
Go to News Site