Somoy TV
মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এফডব্লিউসিএমএস) এবং নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম’ (তুরাপ) নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সিস্টেম দুটির কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বেস্টিনেট কোম্পানি তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিলেও তা সমালোচকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দেশটির সাবেক সংসদ সদস্য, অর্থনীতিবিদ, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী চার্লস সান্তিয়াগো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিস্টেমের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, যেখানে সরকারি অর্থের বিশাল হিস্যা জড়িত, সেখানে কেবল একটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে দায় এড়ানো সম্ভব নয়। ‘জিরো কস্ট’-এর আড়ালে কি মুনাফার বাণিজ্য? বেস্টিনেট এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের এই পদ্ধতি সরকারের ওপর কোনো আর্থিক বোঝা তৈরি করে না। তবে সমালোচকরা বলছেন, প্রত্যেক শ্রমিকের নিবন্ধনে যে ফি নেয়া হয়, তার ভার শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ওপরই গিয়ে পড়ে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিস্টেমটি বিনামূল্যে সেবা দিলেও পরবর্তীতে এটি একটি একচেটিয়া বাণিজ্যিক মডেলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অডিট ও পিএসির আপত্তি উপেক্ষা বেস্টিনেট আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সরকারি অনুমোদনের কথা উল্লেখ করলেও দেশটির অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টগুলোকে এড়িয়ে গেছে। মালয়েশিয়ার অডিটরের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে এফডব্লিউসিএমএস সিস্টেমে সুশাসনের অভাব এবং স্বার্থের সংঘাতের বিষয়গুলো স্পষ্ট ছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে দেশটির পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি) জানায়, এই সিস্টেমে অননুমোদিত ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের আবেদন অনুমোদনের মতো গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ বিতর্কের প্রভাব কেবল মালয়েশিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এফডব্লিউসিএমএস সিস্টেমটি ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে জড়িতদের প্রত্যর্পণের দাবিও উঠেছে। ‘তুরাপ’ নিয়ে নতুন সংশয় নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘তুরাপ’ চালুর উদ্যোগকে সংশ্লিষ্টরা দেখছেন একটি বাড়তি জটিলতা হিসেবে। অনেকের আশঙ্কা, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা বা খরচ কমানোর বদলে বেস্টিনেট আবারও একটি মনোপলি সিস্টেম চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। জবাবদিহির দাবি বেস্টিনেটের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেয়া হলেও সমালোচকরা অনড়। তারা বলছেন, আইনি ভয় দেখিয়ে প্রকৃত প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। জনগণের দাবিগুলো হলো: কারা এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই একচেটিয়া চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে? তাদের আরও প্রশ্ন, এই সিস্টেমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত কত টাকা আয় হয়েছে এবং এর মূল সুবিধাভোগী কারা? কেন মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিকদের পুরো ডেটাবেজের নিয়ন্ত্রণ একটি বেসরকারি কোম্পানির হাতে? বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে সিস্টেমটির পূর্ণাঙ্গ অডিট এবং স্বাধীন তদারকি জরুরি। যতক্ষণ পর্যন্ত এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ নতুন কোনো প্ল্যাটফর্ম বা বিতর্কিত এই সিস্টেমের ওপর ভরসা করা জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Go to News Site