Collector
যারা গুপ্ত বলে তারাই ১৭ বছর বিদেশে লুকিয়ে ছিল: গোলাম পরওয়ার | Collector
যারা গুপ্ত বলে তারাই ১৭ বছর বিদেশে লুকিয়ে ছিল: গোলাম পরওয়ার
Somoy TV

যারা গুপ্ত বলে তারাই ১৭ বছর বিদেশে লুকিয়ে ছিল: গোলাম পরওয়ার

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলকে হায়েনার মতো শিক্ষার্থীদের ওপর লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার পুরোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথে ফিরতে চাচ্ছে; কিন্তু দেশের জনগণ সরকারের সেই আশা পূরণ করতে দেবে না।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের একটি পার্কের মিলনায়তনে জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে। আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। এই সরকার কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে ফিরে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হায়েনার মতো লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে। জনগণ কর্তৃত্ববাদী শাসন আর মেনে নেবে না।’ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলে, ১৭ বছর তারাই বিদেশে লুকিয়ে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বিএনপির গুপ্ত উপদেষ্টারা ছিল, যারা এই সরকারের মন্ত্রী হয়েছে। কাজেই জনগণ জানে আসল গুপ্ত কারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঝিনাইদহের মাটি শহীদের রক্তে ভেজা জনপদ। বছরের পর বছর এ অঞ্চলের মানুষ কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। জীবনের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সামনে নতুন করে কর্তৃত্ববাদী শাসন ফেরার চেষ্টা চলছে। জনগণ আর কখনো সরকারকে কর্তৃত্ববাদী হওয়ার সুযোগ দেবে না।’ আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে দুপক্ষের সংঘর্ষে কৃষক নিহত, আহত ১০ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘বগুড়ায় একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জামায়াতের ওপর নাকি স্বৈরাচারের আত্মা ভর করেছে। আমরা বলতে চাই, বিএনপি সরকারকে ভূতে ধরেছে। কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী শাসনের ভূতে ধরেছে এই সরকারকে। যে কারণে সরকার চাইলেও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারছে না। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার এখন ছলচাতুরি শুরু করেছে।’ জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের আয়োজনে নির্বাচনের আগে চার মাস ধরে দফায় দফায় সংলাপ হয়েছে। ৩৩টি রাজনৈতিক দল সংবিধান সংস্কারে ঐকমত্যে পৌঁছায়। দুঃখের বিষয়, বিএনপি সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ দশটি পয়েন্টে নোট অব ডিসেন্ট দেয়। অধিকাংশ দল সংবিধান সংস্কারে ঐকমত্যে পৌঁছালেও বিএনপি তার বিরোধিতা করেছে। এখন তারা গণভোটের রায়কে বাতিল করতে চায়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বহু রক্ত দিয়েছি, দেশের মানুষ বারবার জীবন দিয়েছে। আমরা আর রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাই না। সরকার জনগণের গণভোটের ম্যান্ডেট যদি মূল্যায়ন না করে, জনগণই আবার রাস্তায় নেমে আসবে। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। রাজপথে কীভাবে আন্দোলন করতে হয় আমরা জানি। দেশের মানুষ জানে। আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।’ ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা মোবারক হোসেন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেবসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Go to News Site