Collector
সেচের অভাবে মরছে চারা, পাটক্ষেতের সঙ্গে ফাটছে ‘কৃষকের কপালও’ | Collector
সেচের অভাবে মরছে চারা, পাটক্ষেতের সঙ্গে ফাটছে ‘কৃষকের কপালও’
Somoy TV

সেচের অভাবে মরছে চারা, পাটক্ষেতের সঙ্গে ফাটছে ‘কৃষকের কপালও’

সবেমাত্র পাটের চারা গজাতে শুরুতে করেছে। এখন বড় হওয়ার পালা। আর তার জন্য দরকার পর্যাপ্ত পানি। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে সেচ দিতে না পারায় চোখের সামনে ফেটে চৌচির পরম যত্নে বোনা পাটক্ষেত। কৃষকের স্বপ্ন যেন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে! সোনালী আঁশ উৎপাদনে খ্যাতির শিখরে থাকা ফরিদপুরের মাঠজুড়ে আজ হাহাকারের চিহ্ন স্পষ্ট।ক্রমশই ফিকে হয়ে আসছে ফরিদপুরের কৃষকদের পাট উৎপাদনের আশা-ভরসা। তীব্র তাপদাহ আর ডিজেল সংকটে সেচ দিতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে পাটের আবাদ। মাঠেই শুকিয়ে যাচ্ছে চারা, দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। চলতি বছর ফলন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে চাষিরা।জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বলছে, ইতিমধ্যেই চাষিদের ফুয়েল কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে। চাষিদের যাতে আবাদে কোনো সমস্যা না হয় সেদিক খেয়াল রাখা হচ্ছে।পদ্মা-বিধৌত ফরিদপুরের মাঠগুলো এখন সবুজ থাকার কথা থাকলেও, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তপ্ত রোদে ফেটে চৌচির জমি, আর সেই খড়া ক্ষেতেই সোনালী আঁশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে চাষিরা। পানির অভাবে বাড়ছে না পাটের চারা, উল্টো রোদের তীব্রতায় পুড়ে যাচ্ছে কচি পাতা, দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ।পাটক্ষেতে নিড়ানি দিচ্ছেন কৃষক। ছবি: সময় সংবাদডিজেল সংকটে ক্ষেতে দিতে পারছে না সেচ। কাকডাকা ভোর থেকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না, খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ফুয়েল কার্ড দেয়া হলেও কৃষকদের দাবি, বরাদ্দকৃত তেলের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে চলতি বছর পাটের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করেছে চাষিরা।পাটচাষি বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘তীব্র তাপদাহ চলছে, এখন সেচ দিতে পারছি না, পাট ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিও নেই, একারণে মাঠজুড়ে পাট ক্ষেত পুড়ে যাচ্ছে, আবার পোকার আক্রমণও হয়েছে। ডিজেল পাচ্ছি না, ডিজেল না পাওয়ায় মেশিন চালাতে পারছি না, একারণে সেচ দিতে পারছি না।’আরেক চাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর বেলা থেকে পাম্পে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। দুপুর পেরিয়ে বিকেল হয়ে যায় তবুও ডিজেল পাই না। যদিও পাই তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে ১০ লিটার, আমি পাই দুই লিটার। তাহলে কীভাবে চলবে। এক ঘণ্টা মেশিন চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। দেখা যায় অর্ধেক জমিতেও সেচ দিতে পারি না।’ডিজেলের অভাবে বন্ধ শ্যালো মেশিন। ছবি: সময় সংবাদগৃহবধূ রাহেলা বেগম বলেন, ‘সেচ দিতে না পারায় এবছর পাট পুড়ে যাচ্ছে, পোকাও লেগেছে। এখন ঠিকমতো সেচ দিতে না পারলে ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে। সারা বছরের সংসার খরচ চলে এই পাট চাষাবাদ করে। এবছর পাটের ফলনও ভালো হবে না। সংসার কীভাবে চলবে সেটা নিয়েই চিন্তিত আমরা। শুধু আমরাই না, এলাকার সব পাটচাষির একই সমস্যা।’আরেক চাষি আব্দুল্লাহ শেখ বলেন, ‘ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়েছে। কার্ড নিয়ে পাম্পে গেলেও ডিজেল ঠিকমতো পাই না, কার্ড দিয়ে কী করব। জমিতে সেচ দিতে না পারায় পাটের আগা মরে যাচ্ছে। এবছর ফলন ভালো হবে না। আল্লাহ যদি বৃষ্টি দেয় তাহলে একটু রক্ষা পাব আমরা।’মেসার্স রিয়ো ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না আসায় চাষিদের সরবরাহ করতে সমস্যা হচ্ছে। জেলায় ডিজেলের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, সে তুলনায় কম পাচ্ছি আমরা। যতটুকু পাচ্ছি সেভাবেই বণ্টন করা হচ্ছে।’কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘পাট চাষ যাতে করে ব্যাহত না হয়, সেকারণে ফুয়েল কার্ড দেওয়া হচ্ছে চাষিদের। ডিজেল সংকটে চাষাবাদে যাতে সমস্যা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষা কৃষকদের। ছবি: সময় সংবাদতিনি আরও বলেন, ‘পাট উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত জেলা ফরিদপুর। এ জেলার চাষিদের পাট উৎপাদনে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেকারণে মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছর জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৭ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে, আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন।’ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, ‘জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চাষিদের ফুয়েল কার্ড দেয়া হয়েছে। ডিজেল সংকটে পাট চাষে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সব পাম্পে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।’

Go to News Site