Somoy TV
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের যুদ্ধকে পারমাণবিক সংঘাতে পরিণত করতে চান না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে তেহরানের জন্য ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে’। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী পৌঁছেছে।এই সতর্কবার্তার মধ্যেই ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির পর এটিই প্রথম এমন ঘটনা। বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে ইসরাইলি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, বর্তমানে তারা ইরানে কোনো হামলা চালাচ্ছে না। ‘পরমাণু অস্ত্র কারও ব্যবহার করা উচিত নয়’ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সময় ইরানে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবেন কিনা- এমন প্রশ্ন উঠে আসে। এতে ট্রাম্প সাংবাদিকের ওপর রীতিমত চটে যান। তিনি বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা করেননি। তার দাবি, প্রচলিত (নন-নিউক্লিয়ার) যুদ্ধেই ইরানকে ইতোমধ্যে ‘সম্পূর্ণভাবে দুর্বল’ করে দেয়া হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য: আমি কেন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব? আমরা তা ছাড়াই তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি। না, আমি এটা ব্যবহার করব না—পারমাণবিক অস্ত্র কারওই ব্যবহার করা উচিত নয়।’ ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরি যাচ্ছে’ পরে নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এক পোস্টে আবার হুমকি দেন। বলেন: আমার হাতে দুনিয়ার সময় আছে, কিন্তু ইরানের নেই—তাদের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে!’ এতে তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে গেছে, নেতৃত্ব দুর্বল এবং অবরোধ শক্তভাবে কার্যকর রয়েছে—এবং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। অনিশ্চিত শান্তি আলোচনা এদিকে পাকিস্তানে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা এখন অনিশ্চয়তায় ঝুলে আছে। কূটনৈতিক অগ্রগতির কোনো লক্ষণ নেই। উত্তেজনার কেন্দ্র এখন হরমুজ প্রণালী—যেখান দিয়ে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ হয়। যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কার্যত এই পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ট্রাম্প একতরফাভাবে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়েরই মনোযোগ এখন হরমুজ প্রণালীর দিকে। মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই তারা আরও একটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ মোতায়েন করেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বেড়ে তিনটিতে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, একটি রণতরী লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে এবং আরেকটি একই অঞ্চলে অবস্থান করছে।
Go to News Site