Jagonews24
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। অথচ টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। এই অবস্থায় ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেন। তবে ইতালির ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের কোনো প্রস্তাবে তারা আগ্রহী নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পলি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো কাছে ইতালিকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। তার দাবি, এটি রাজনৈতিক নয় বরং জরুরি পরিস্থিতির জন্য একটি বিকল্প পরিকল্পনা। তবে ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রে আবোদি এই প্রস্তাবকে ‘অসম্ভব ও অনুচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালির পুনরায় যোগ্যতা অর্জনের প্রশ্নই ওঠে না। প্রথমত, এটা সম্ভব নয়; দ্বিতীয়ত, এটা উপযুক্তও নয়। কোনটা আগে বলব বুঝতে পারছি না। যোগ্যতা অর্জন করতে হয় মাঠের খেলায়।’ ইতালির সব খেলাধুলার তদারক করা অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুচিয়ানো বুয়োনফিগ্লিও বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমি এটাকে অপমানজনক মনে করব। বিশ্বকাপে খেলতে হলে সেটার যোগ্যতা অর্জন করেই যেতে হয়, এভাবে নয়।’ ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকার্লো জর্জেত্তিও এ প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের খেলোয়াড়দের প্রবেশে সরাসরি কোনো বাধা নেই, তবে দলের সঙ্গে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকতে পারে। ফিফা পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে ইরান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই বিশ্বকাপে অংশ নেবে। সংস্থাটি কোনো ম্যাচ স্থানান্তর বা দল পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে এশিয়া অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের পরিবর্তে অন্য কোনো দলকে নেওয়া হলে তা নিয়ম অনুযায়ী একই কনফেডারেশনের দল হওয়ার কথা—যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা পরবর্তী সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে রয়েছে। ইরানের দূতাবাসও এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে জানিয়েছে, ‘ফুটবল জনগণের খেলা, রাজনীতির নয়।’ সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের আগে এই ইস্যু আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এমএমআর
Go to News Site