Somoy TV
কিক অফের পরপরই আবাহনীর আক্রমণ, ম্যাচের সময় তখন মাত্র ৩৩ সেকেন্ড। ডান দিক দিয়ে মিরাজুল ইসলাম বক্সে দারুণ এক ক্রস বাড়ালেন, কিন্তু হঠাৎই রক্ষণে গড়বড়— বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তাল কেটে যায় মিঠু চৌধুরীর। শেষ পর্যন্ত বল তার পায়ে লেগেই জালে জড়িয়ে পড়ে। এই একমাত্র গোলই পরে ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফর্টিস এফসিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আবাহনী। শুরুর সেই সৌভাগ্যজনক গোলটি আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় পায় আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। এই জয়ে আবাহনীর পয়েন্ট হলো ২৮, বসুন্ধরা কিংসের পয়েন্টও সমান ২৮। তবে আবাহনীর চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছে কিংস। এই হারে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে নেমে গেছে ফর্টিস। শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে আবাহনী লিমিটেড। ম্যাচের একেবারে শুরুতেই ভাগ্যের ছোঁয়ায় এগিয়েও যায় তারা, যা পুরো ম্যাচের ছন্দ নির্ধারণ করে দেয়। আরও পড়ুন: মেসির কারণে টিকিটের মূল্য বেড়েছে ১৪০০ শতাংশ প্রথম ধাক্কা সামলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফর্টিস এফসি। একের পর এক আক্রমণে আবাহনীর রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আসে তাদের সবচেয়ে বড় সুযোগ। ৪২তম মিনিটে বাইলাইনের কাছাকাছি থেকে ডাওয়া তিসেরিং দারুণ একটি ক্রস তুললে গোলকিপার মিতুল মারমা সেটি ধরতে ব্যর্থ হন। বল পৌঁছে যায় ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা ইসা জালোর কাছে, কিন্তু সহজ সুযোগ পেয়েও তিনি হেডে বলটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান। পরের মিনিটেই আবার আক্রমণে ওঠে ফর্টিস। এবার বক্সের ভেতর ভালো অবস্থানে থেকেও নিজে শট না নিয়ে ইসা জালো বল বাড়িয়ে দেন বাম পাশে থাকা ওনিয়েকাচি ওকাফোরকে। তবে তার নেওয়া শটটি এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ফলে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও সমতা ফেরাতে পারেনি ফর্টিস। কিজিতো কাওয়ামের একমাত্র গোলে রহমতগঞ্জ ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটিকে হারিয়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। ছবি: বাফুফে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে আসে। এগিয়ে থাকা আবাহনী তখন মূলত রক্ষণ সামলাতেই মনোযোগ দেয়। ৬৬তম মিনিটে ইসা জালো বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক নেন। বলটি রক্ষণভাগের দেয়াল পেরিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত সেটি সামলে দেন গোলকিপার মিতুল মারমা। আরও পড়ুন: ১৭ বছরেই ইউরোপের নজরে কস্তোভ: রেড স্টার তারকার বিস্ময়কর উত্থান ৭৯তম মিনিটে কর্নার ঠেকাতে গিয়ে লাফিয়ে ওঠেন মিতুল। সেই সময় পেছন দিক থেকে শট নিতে গিয়ে ইসা জালোর পা তার পিঠে লাগে, ফলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। যদিও চোট গুরুতর ছিল না— সংক্ষিপ্ত চিকিৎসা নিয়েই আবার খেলায় ফেরেন এই গোলরক্ষক। ম্যাচের শেষ দিকে চাপ বাড়ায় ফর্টিস এফসি। যোগ করা সময়ে ওকাফোরের একটি শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই শেষ বাঁশি বাজলে জয় নিশ্চিত হয় আবাহনীর। দিনের আরেম ম্যাচে চমক দেখিয়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। ৪৬তম মিনিটে কিজিতো কাওয়ামের একমাত্র গোলে রহমতগঞ্জ ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটিকে হারায় তারা। এই জয়ে অবনমন অঞ্চলের চাপ কাটিয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে আরামবাগ। অন্যদিকে ১৪ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা রহমতগঞ্জের জন্য শিরোপা দৌড়ে ফিরে আসা এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
Go to News Site