Collector
খুলনায় তরমুজ চাষ কমলেও খুশি কৃষক | Collector
খুলনায় তরমুজ চাষ কমলেও খুশি কৃষক
Somoy TV

খুলনায় তরমুজ চাষ কমলেও খুশি কৃষক

খুলনা অঞ্চলে এ বছর তরমুজ চাষ কিছুটা কমলেও উৎপাদন ও বাজারদরে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে, আর ক্ষেত থেকেই সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন চাষিরা।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে খুলনা জেলায় ১৩ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩৮ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে দাকোপ উপজেলায়, ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। জাতীয় উৎপাদনের দিক থেকেও খুলনা জেলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় আবাদ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছর খুলনায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৫৬ হেক্টরে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছর অনেক কৃষক ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফলে এ বছর অনেকে তরমুজের পরিবর্তে সূর্যমুখীসহ অন্যান্য ফসলে ঝুঁকেছেন। বর্তমানে খুলনায় খুচরা বাজারে বড় আকারের তরমুজ কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। পাইকারি পর্যায়েও ভালো দর পাচ্ছেন কৃষকরা। দাকোপ উপজেলার কৃষক মো. সোহেল রানা বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। মোট খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছি প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার টাকায়। খুব বেশি লাভ না হলেও লোকসান হয়নি, এটাতেই খুশি। একই উপজেলার আরেক কৃষক আব্দুল করিম জানান, বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। এবার গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। বিঘা প্রতি ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় দাম ভালো, তবে আগের বছরের মতো বেশি না। আরও পড়ুন: তরমুজের বাম্পার ফলন, বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাইকগাছা উপজেলার কৃষক শাহিন আলম বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায় সব তরমুজই তুলে ফেলা হয়েছে। বাজার ভালো থাকায় দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে। দাম মোটামুটি ভালো পাওয়ায় ক্ষতি হয়নি। ইতোমধ্যে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার অধিকাংশ জমির তরমুজ উত্তোলন শেষ হয়েছে। তবে দাকোপ উপজেলায় এখনও প্রায় ৬০ শতাংশ জমির তরমুজ মাঠে রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ শতাংশ হার্ভেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। খুলনা অঞ্চলের বিশেষ করে দাকোপের তরমুজ লাল রং ও মিষ্টি স্বাদের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই এখানকার তরমুজ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ শুরু হয়েছে। ক্ষেত থেকেই ব্যাপারীরা ট্রাকে করে তরমুজ পাঠাচ্ছেন রাজধানীর কাওরান বাজারে। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুমিল্লায়ও রয়েছে বড় বাজার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খুলনার উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি না হওয়ায় গুণগত মানও ভালো রয়েছে। কৃষকরা ক্ষেত থেকেই ভালো দাম পাচ্ছেন, এতে আমরা সন্তুষ্ট। আরও পড়ুন: কৃষক ফরিদ তালুকদারের ১২ হাজার তরমুজের চারা নষ্ট করল দুর্বৃত্তরা! তিনি আরও বলেন, বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকায়। গড়ে বিঘা প্রতি ৩০ হাজার টাকা লাভ করছেন কৃষকরা। অনেক ক্ষেত্রে এই লাভ আরও বেশি হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, আগামী এক মাস পর্যন্ত খুলনা অঞ্চলের তরমুজ ক্ষেত থেকে বাজারে সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। উৎপাদন কিছুটা কম হলেও ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় মৌসুম শেষে কৃষকদের আয় সন্তোষজনক হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

Go to News Site